অনিশ্চয়তার মুখে নাইক্ষ্যংছড়ির ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫শ শিক্ষার্থীর জীবন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে মৌলিক শিক্ষা সহায়তা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এ সংকট দেখা দিয়েছে। যার কারণে বর্তমানে উপজেলায় ১হাজার ৪৩৫জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) আর্থিক সহায়তায় পার্বত্য এলাকার শিক্ষা বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১৫টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। বিগত ২০১৩ সালের শেষ পর্যন্ত সিএইচটিডিএফ-ইউএনডিপি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ যৌথভাবে এসব স্কুল পরিচালনা করা হলেও সিএইচটিডিএফ-ইউএনডিপি শিক্ষা খাতে তহবিল শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী গত ২০১৪ সনের ১জুলাই থেকে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গ্রাউস ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলায় ইউএনডিপি কর্তৃক পরিচালিত আরো ৬৮টি স্কুলের অবস্থাও একই।
নাইক্ষ্যংছড়িতে কর্মরত গ্রাউসের শিক্ষা প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর অংসা প্রু জানান, ২০১৬সনের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে গ্রাউস। পরবর্তী পুনরায় গ্রাউস ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয়ে অতিরিক্ত তিন মাস প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৩১ মার্চ ২০১৭ইং সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদান করেছে, বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। দূর্গম এলাকার উক্ত ১৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জীবন অন্ধকারে চলে যাবে এবং বিদ্যালয় গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ থুবড়ে পড়বে। এ অবস্থায় সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে বিদ্যালয় জাতীয়করণে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ্যানিং মার্মা জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পার্বত্য ও চর এলাকায় এক হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পার্বত্য জেলা পরিষদ বিশেষ উদ্যোগ নিলে এসব স্কুল আলোর মুখ দেখবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমদ বলেন, বর্তমানে কয়েকটি স্কুল চালু থাকলেও বেতন ভাতা ও শিক্ষার্থী সংকটের কারনে বেশকটি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনিও মনে করেন, জেলা পরিষদের মাধ্যমে এসব স্কুল আলোর মুখে ফিরে আসুক।
পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাস বলেন, জেলার দুর্গম এলাকার মানুষ এখনও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত। এ অবস্থায় ইউএনডিপি পরিচালিত ৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম আকস্মিকভাবে বন্ধ হওয়ার কারণে প্রায় ১০/১২ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা বঞ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, বান্দরবান জেলায় ইউএনডিপি পরিচালিত ৮৩টি স্কুলের অন্তত ১০হাজার শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মহীন পড়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।