অন্ধত্ব ঘোচাতে ৪০ কি: মি: পাহাড়ী পথ পাড়ি !

pic1-baishari-08-9-16মেনরোয়া ম্রো,বয়স ৭১। এক ভাই ছাড়া পৃথিবীতে তার আর কেউ নেই। তিনি ১০ বছর বয়স থেকে চোখের সমস্যায় জর্জরিত। সেই মেনরোয়া ম্রো পৃথিবীর আলো দেখতে দূর্গম চরই পাড়া থেকে দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে আসেন নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী বাজারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দূর্গম পাহাড়ী জনপদ বাইশারী ইউনিয়নের ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজার একটি ম্রো বসতি চরই পাড়া। বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাড়াটি। মাত্র ২৫টি পরিবার এবং ১৫০ জন ম্রো সম্প্রদায়ের বসবাস।
এই চরই পাড়ারই একজন রেংরুই ম্রো’র পুত্র মেনরোয়া ম্রো, এখনো অবিবাহিত। তার এক ভাই ছাড়া এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। পরিবারের আর্থকি অবস্থা ভালো না হওয়ায় চোখের চিকিৎসা করতে পারছেনা, ফলে তিনি ধীরে ধীরে অন্ধত্বকে বরণ করে নিচ্ছেন। আর সেই টাকা উত্তোলনের লক্ষ্যে তার ভাই রেংনং ম্রোকে সাথে নিয়ে দূর্গম চরই পাড়া থেকে দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে বাইশারী বাজারে আসছেন তিনি।
এই প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয় বাইশারী বাজার থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গাঝিরি রাবার বাগানের পথে। সেসময় তিনি জানান তার কষ্টের কথা। মেনরোয়া ম্রো জানান, তার দুই চোখেই সমস্যা তিনি খুব কমই দেখতে পান। তার আপনজন বলতে এক ভাই ছাড়া আর কেউ নেই। তার ভাইয়ের সহযোগীতায় মানুষের দূয়ারে যাচ্ছেন ভিক্ষার উদ্দেশ্যে, যা দিয়ে তিনি চোখের চিকিৎসা করাবেন।
জানা যায়, চরই পাড়ায় ২৫ টি পবিরারে মোট ১৫০ জন লোক বসবাস করেন। তারা আধুনিক সমাজ থেকে অনেক দূরে। শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকেও তারা বঞ্চিত। ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবুল হাসেন আবু বলেন, ইতিমধ্যে তাকে প্রতিবন্ধির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম জানান, চরই পাড়ার মেনরোয়া ম্রো প্রতিবন্ধি ভাতা পান কিনা তা অবগত নন ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।