অপরুপ সাজে কাপ্তাইয়ের প্রশান্তি বিনোদন পার্ক

কাপ্তাইয়ের প্রশান্তি বিনোদন পার্ক
অপরুপ সৌন্দয্যের লীলাভুমি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা। কাপ্তাইয়ের প্রতিটি স্থানেই রয়েছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য। সবুজ পাহাড়, লেক, কর্ণফুলী নদী সহ আঁকা-বাকে পাহাড়ি পথ যে কোন মানুষের মনকে আকর্ষণ করে সহজেই। বাড়তি আকর্ষণ ও ভ্রমণ পিপাসুদের বিনোদন প্রদানের প্রয়াসে কাপ্তাইয়ের বালুরচর এলাকায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের গাঁ ঘেষে নব রুপে নির্মিত হয়েছে আকর্ষণীয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র ‘প্রশান্তি পার্ক’। পাহাড়, সবুজ বৃক্ষ, কর্ণফুলী নদী সহ বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় স্পট নিয়ে ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে পর্যটন কেন্দ্রটি।
কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত এই বিনোদন কেন্দ্র ইতোমধ্যে অন্যতম ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। কাপ্তাই-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একেবারে পাশে অবস্থিত হওয়ায় সড়কপথে যে কোনো সময় অতি সহজে প্রশান্তি পিকনিক স্পটে আসা যায়। আবার কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় নৌপথেও প্রশান্তি পিকনিক স্পটে আসার সুযোগ রয়েছে।
অসংখ্য গাছগাছালির সমাহার রয়েছে এই প্রশান্তি পিকনিক স্পটে। গাছের মগডালে লম্বা লেজওয়ালা কালোমুখি হনুমান প্রায় সময় দেখা যায়। এ গাছ থেকে ও গাছে বানরের দাপাদাপি ও লাফালাফি দেখা যাবে এখানে। এছাড়াও হরেক রকম পাখির কলকাকলিতো আছেই।প্রশান্তি স্পটে অনেকগুলো আকর্ষণীয় সিমেন্টের তৈরি গোলঘর রয়েছে। এসব গোলঘরে সিমেন্টের তৈরি বসার স্থায়ী ব্যবস্থাও আছে। প্রশান্তি পিকনিক স্পট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক পর্যটক এখানে এসে নৌ বিহারে বেরিয়ে পড়েন। আবার কর্ণফুলী নদীর মৃদু হাওয়া দুলতে দুলে করতে পারে কায়াকিং। রয়েছে কায়াকিং করার জন্য সুব্যবস্থা।
প্রশান্তি পিকনিক স্পটের কাছ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদী পর্যটকদের সবসময় আকৃষ্ট করে। প্রশান্তি পিকনিক স্পটের অদূরেই রয়েছে ঐতিহাসিক সীতাপাহাড়। যেখানে সীতাকে বনবাসে দেওয়া হয়েছিল। বনবাসে থেকে সীতা কর্ণফুলী নদীর যে ঘাটে এসে গোসল করতেন সেই ঘাটটি এখন সবার কাছে সীতার ঘাট নামে পরিচিত।
প্রশান্তি পিকনিক স্পটে বিনোদনে এসে সীতার ঘাটে পা ফেলতে কার না মন চায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য রয়েছে কাঠের তৈরি মনোমুগ্ধকর মঞ্চ। পিকনিকে আসা লোকজন নেচে- গেয়ে হৈহুল্লোড় করে এই মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। এখানে একসঙ্গে পাঁচ হাজার লোক সমাগমের ব্যবস্থা রয়েছে।নারী-পুরুষের জন্য পৃথক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেটে সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহ রয়েছে। আকর্ষণীয় এই বিনোদন কেন্দ্রের নাম প্রশান্তি। সত্যিকার অর্থেই এখানে আসলে প্রশান্তিতে মন ভরে যায়। প্রশান্তি পিকনিক স্পটের প্রবেশ মুখে রয়েছে শনের তৈরি গোলঘর। প্রশান্তির চতুর্দিকে রয়েছে বাঁশের চটির তৈরি হালকা দেয়াল। রয়েছে প্রশান্তি ক্যানটিন, সহজ লভ্য দামে লাঞ্চ কিংবা যেকোন খাবার পরিবেশন করা হয় এই ক্যান্টিন হতে।
প্রশান্তি পিকনিক স্পটের পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন জানান, ব্যবসায়িক উদ্দ্যেশের চেয়ে পর্যটকদের বিনোদন দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়েই আমরা এটি পরিচালনা করছি। এখানে যারা ভ্রমণে আসবেন তারা যদি কাপ্তাইয়ের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে চান, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝর্ণা, পেডা টিং টিং, দুপপুর ঝর্ণাসহ যেকোনো স্থানে বেড়াতে যেতে চান তাহলে প্রশান্তি পিকনিক স্পটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও গাইডের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
জানা গেছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এমনকি কক্সবাজার থেকেও অনেকে এখানে পিকনিক করতে আসেন। দলবল নিয়ে নয়, জোড়ায় জোড়ায় বা একা এসেও এখানে নির্মল আনন্দ পাওয়া যাবে। তবে পিকনিকে আসতে হলে আগাম বুকিং নিতে হবে। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাসটার্মিনাল থেকে যাত্রীবাহী বাসে চড়ে অনায়াসে কাপ্তাইয়ের প্রশান্তি পিকনিক স্পটে আসা যাবে। ঢাকা থেকে সরাসরি কাপ্তাই আসতে বিভিন্ন পরিবহন রয়েছে। এসব পরিবহন প্রতিদিন ঢাকা টু কাপ্তাই যাতায়াত করে।
প্রশান্তি পিকনিক স্পটে চট্রগ্রামের আগ্রাবাদ হতে বেড়াতে আসা নব দম্পতি হাসান-মারুফার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে তারা মুগ্ধ হয়েছে এখানে এসে। এছাড়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ঘুরতে আসা বিবিএর ছাত্র ইরফান, সবুজ, মামুন জানান, এই পিকনিক স্পটটির প্রতিটি কর্নার মনোমুগ্ধকর রুপে সাজানো হয়েছে।

আরও পড়ুন
Loading...