অবশেষে কর্ণফুলী পেপার মিলে উৎপাদন শুরু

কর্ণফুলী পেপার মিল
টানা বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে থাকা কেপিএম’র পাম্প হাউজ নষ্ট হয়ে পড়ার কারণে ১৫ দিন যাবৎ উৎপাদন বন্ধ থাকা রাঙামাটির কর্ণফুলী পেপার মিলে রোববার সকাল থেকে পুনরায় কাগজ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কেপিএম সূত্রে জানা গেছে,রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িস্থ ওয়াগ্গা ছড়ায় কর্ণফুলী পেপার মিলে পানি সরবরাহের প্রধান পাম্প হাউজটির অবস্থান। পাশের কর্ণফুলী নদী থেকে পানি নিয়ে মিলের কাগজ উৎপাদন ও মিলের আবাসিক এলাকায় পানির চাহিদা মেটানো হয়। পাহাড়ি ঢল ও কাপ্তাই হ্রদের অতিরিক্ত পানি বাঁধের ১৬ স্পিলওয়ে খুলে দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দেয়ায় গত ২২ জুলাই থেকে কর্ণফুলী নদীতে থাকা কেপিএম’র পাম্প হাউজটির সবক’টি মোটর গভীর পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে পাম্পহাউজটিতে পলিজমে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিলে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পেপার মিলের উৎপাদন ও সকল শ্রমিক-কর্মচারী ও আবাসিক এলাকার লোকদের পানি সরবরাহ গত ১৫দিন ধরে বন্ধ থাকে।
শনিবার বিকেলে যান্ত্রিক ক্রুটি সারিয়ে মিলে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবার পর আজ রোববার থেকে পুনরায় কেপিএম’র কাগজ উৎপাদন শুরু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম এম এ কাদের।
স্থানীয়রা জানায়, কর্ণফুলী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেপিএম এর পাম্প হাউজের ভিতরে থাকা মোটরগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এতে পানির অভাবে মিলের উৎপাদন বন্ধসহ এলাকার সাপ্লাই পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে কেপিএম এলাকার ১৫ হাজার জনগোষ্ঠির খাবার ও ব্যবহারের পানির তীব্র সংকটের ফলে শ্রমিক-কর্মচারী ও আবাসিক লোকদের ভোগান্তি চরমে।
কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম এম এ কাদের বলেন, কর্ণফুলী নদীর ৪০ ফুট নিচে পানির পাম্প হাউজে ক্রুটি দেখা দেয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। নৌবাহিনীর ডুবুরি দিয়েও পাম্পগুলো মেরামতের চেষ্ঠা চালানো হয়। সম্ভব না হওয়ায় কেপিএমের উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়। কাপ্তাই বাঁধের অতিরিক্ত পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়ার কারণে নদীর স্রোত বেশি হওয়ায় পলি জমে পাম্প হাউজের মোটরগুলো অকেজো হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।