অবহেলার গর্তে শিশুর মৃত্যু, লাখ টাকায় রফা !

বান্দরবানের রুমায় টিউবওয়েলের গর্তে পড়ে তুমপাও ম্রো লিলি (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে । শনিবার সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রুমা বাজারে এ ঘটনা ঘটে । বাজারের এডেন রোড সংলগ্ন আবাসিক ছাত্রাবাসের সামনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্মাণাধীন টিউবওয়েলের গর্তে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি অনাকাঙ্খিত বিবেচনায় নিয়ে ওই দিনই উপ-ঠিকাদার ও শিশুর অভিভাবকের মধ্যে লাখ টাকায় রফা হয় ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নুচিং মারমা সন্তানদের লেখাপড়া করাতে বাজার সংলগ্ন ইডেন রোডে বাসা ভাড়া নেন। প্রতিদিনের ন্যায় অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে লুংঝিরি পাড়ার সংলগ্ন আবাসিক ছাত্রাবাস উঠানে খেলছিল তুমপাও ম্রো(মিলিপ্রু )। খেলার এক ফাঁকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের খোঁড়া গর্তে পড়ে যায় সে। অনেক খোঁজাখুজির পরে স্থানীয়রা রিংওয়েলের গর্তে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ।

লুংঝিরি পাড়ার কারবারী শৈহ্লাউ মারমা ও পাড়ার বাসিন্দা মংমংসিং মারমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই মাস আগে একটি রিংওয়েল অর্ধেক গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখে চলে যায় এ কাজের ঠিকাদার বান্দরবানের আহম্মদ নবীর সাব ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল মেকানিক রেদামং এর শ্রমিকেরা।

তারা আরো জানান, তাছাড়া এ রিংওয়েলের কাজটি সমাপ্ত ও গর্ত খোলা না রাখতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকজনদের বহুবার বলা হলেও তারা সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে। তাদের এ অবহেলার কারণে শিশুটির তাজা প্রাণ অকালে চলে গেল।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার আহম্মদ নবী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে সাব ঠিকাদার রেদামং মারমা বলেন উভয় পক্ষের আপোষ মিমাংসায় শিশুটির মাকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা দেব বলে তাদের কথা দিয়েছি। মূল ঠিকাদার আহমেদ নবী ও আমি( রেদামং) দুইজন মিলে সব দেবেন জানালেন তিনি।

শিশুটি অভিভাবক মা নুচিং জানান, তার আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় মোরব্বিদের কথায় আমি রাজি হয়েছি। তবে আমার মেয়ের তাজা প্রাণ এভাবে চলে যাবে, তা মেনে নিতে পারছিনা।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মা ও আত্মীয় স্বজনকে একলাখ ১৫হাজার টাকা দেয়া শর্তে উভয় পক্ষ আপোষ মিমাংসা সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।