অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে হতাশা পাহাড়ের ২২ অনাথ শিক্ষার্থীর
বান্দরবানের লামা উপজেলা জীনামেজু অনাথ আশ্রম থেকে ২০২৫ সালে এস.এস. সি তে জিপিএ-৫ পেয়েও টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছেনা ২২ অনাথ শিক্ষার্থী।
জিপিএ ৫ প্রাপ্ত হামলে খুমী বলেন, আমি রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম লংথাং খুমি পাড়া গ্রামের অনাথ । জিনামেজু অনাথ আশ্রমে শিশু ক্লাস থেকে এখানে বড় হয়েছি। গত ২০২১ সালের পাঠদান স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জিনামেজু টেকনিক্যাল ইনস্ট্রিটিউট হতে ২০২৫ সালে এসএসসিতে আমরা ২৩ জন অংশ গ্রহন করেছিলাম, জিপিএ-৫ আমিসহ আর ও একজন পেয়েছে। মোট ২২ জন পাশ করেছি, অন্য ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৪.৬৫ পেয়েছে। মা বাবা না থাকায় সরকারী কলেজের ভর্তি হতে প্রতিজনের ১০ হতে ১৫ হাজার এবং বই ক্রয়ের ৫ হাজার সহ মোট ২০ হাজার টাকা আমাদের সকলের প্রয়োজন। ২০ হাজার টাকা না থাকায় আমরা সবাই আর পড়তে পারবোনা। আমাদের স্বপ্ন আপাতত এখানে শেষ হতে চলছে।
জিনা মেজু অনাথ আশ্রমে বৌদ্ধ ভিক্ষু ভান্তের আন্তরিকতা আমরা এবারে ভালো রেজাল্ট নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা উর্ত্তীণ হয়েছি। বড় হয়ে আমিও একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। দেশের মানুষ সহযোগীতা করলে আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থ অভাবে নিভে যাওয়ার থেকে রক্ষা পাবে। সবাইকে দায়িত্ব নেয়ার আকুল আবেদন করছি।
এভাবে জিনামেজু অনাথ আশ্রমের ২২ শিক্ষার্থীর মধ্যে মারমা ৭ জন, খুমী ৫ জন, ম্রো ৫জন ও বাঙালি ২ জন, ত্রিপুরা ৪ জনসহ মোট ২২ জন শিক্ষার্থীদের কলেজের ভর্তি পর্যন্ত আর্থিক সহযোগীতা জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের আবেদিন জানিয়েছে।

পাহাড়ে ঘেরা ইয়াংছা বাজারে অবস্থিত পাহাড়ের শিক্ষার বাতিঘর “জীনামেজু” অনাথ আশ্রম। প্রতিষ্ঠানটি ২৩ বছর পূর্তিতে এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিষ্ঠানটি সংবর্ধনা ও দিয়েছেন। বর্তমানে “জীনামেজু” অনাথ আশ্রমে মোট ৯৬ জন ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালে অনাথ আশ্রমটি সর্বপ্রথম যাত্রা শুরু হয় ত্রিশ ডেবা গ্রামে। এর পর ২০১০ সালের ইয়াংছা বাজার এলাকায় ৪০ শত পাহাড়ে “জীনামেজু” অনাথ আশ্রম নামে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এবিষয়ের জানতে চাইলে “জীনামেজু” অনাথ আশ্রমে প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক উঃ নন্দমালা মহাথের বলেন, আমি পড়ালেখা কিছুই জানিনা কিন্তু আমার স্বপ্ন ছিলো পাহাড়ের পিছিঁয়ে থাকা জনগোষ্ঠী এবং অনাথ ছেলেমেয়েদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার। পাহাড়ী বাঙ্গালীর সহযোগীতায় আমি ১৯৯৯ সালের সর্বপ্রথম ক্ষুদ্র আকারে আশ্রমটি পরিচালনা করেছি। পরের ২০১০ সালে ইয়াংছা বাজার এলাকায় আমাকে মাহবুব রহমান নামে এক বাঙ্গালী বন্ধু জায়গাটি দান করেছিলো। সে তখন থেকে আমার পদযাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠানটি আমার নিজের ও ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য গড়ে তুলেনি, যেদিন আমি থাকবোনা তখন এলাকায় সকল সম্প্রায়ের মানুষজন ভোগ করবে।
জমিদাতা মাহবুব রহমান কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভান্তে হচ্ছে আমার খুব কাছের বন্ধু। আমরা আলাদা ধর্মের হলেও মন কিন্তু এক। ওনার দুরদর্শিতা ও চিন্তা ভাবনা দেখে সাহায্য না করে পারছিনা। ভান্তের মত অনাথ পিতা আমার চোখের কম দেখেছি। এমনকি আমি একটি বড় বুদ্ধ মুর্তি ও দান করেছি। আরেক জমিদাতা মোঃ জসিম উদ্দিন ও একি সুরের বলেন, আমরা এলাকায় যারা আছি সবাই যে যার সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা করে যাচ্ছি।
ফাসিঁয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন,অনাথ আশ্রমে প্রায় শিক্ষার্থী বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, আলিকদম উপজেলার দুর্গম গ্রাম হতে পিতৃ মাতৃহীন শিশুরা এখানে লেখা পড়া করে । তাদের থাকা- খাওয়ার জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তর কিছু অনুদান দেয়। এবং আমরা ও সাধ্য মতে অনুদান দেয়। এসএসসি পাশ করে লামায় মাতা মুহুরী কলেজে ভর্তি ও বই খাতা কলম সব খরচ ভান্তের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। আমরাও কিছু দিয়েছি, এছাড়া দেশের বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি পারেন, সাধ্য মতো অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়ানো আহবান জানান তিনি।



