আওয়ামীলীগের সম্মেলন: পদে থাকা না থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেতারা !

al-copyআওয়ামী লীগের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনের আর খুব বেশি দেরি নেই। সম্মেলন নিয়ে বেশ আগে থেকেই উৎসাহ আর উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে আসন্ন এই সম্মেলনকে ঘিরে পদপ্রত্যাশী দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তাও কাজ করছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশির ভাগ জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যেই ‘বাদ পড়ছি, না থাকছি’ এই দুশ্চিন্তা জেঁকে বসেছে। তবে পদোন্নতি বা আগের চেয়ে ‘ভালো পদ পাচ্ছেন কিনা’ সেই চিন্তায়ও অনেকে উদ্বেগে আছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে এমন জায়গাগুলোতে ভিড় করছেন ‘চিন্তিত’ নেতারা। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।

কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলনে যে কমিটির ঘোষণা আসবে তাতে বড় কোনও চমক নেই। কিন্তু তারপরেও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা কাজ করছে।

সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের মধ্যে কাদের ত্যাগ-তিতীক্ষা আছে সেই বিষয়গুলোও এখন সামনে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ওয়ান ইলেভেনের সময় কার কী ভূমিকা ছিল তা নিয়ে একে অপরের মধ্যে আলোচনার ধুম লেগেছে। জানা গেছে, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্প্রতি প্রস্তুতি কমিটির এক বৈঠকে এই আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। সেদিন থেকে ‘ওয়ান ইলেভেন’ নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। আর এটিই তাদের ত্যাগ প্রমাণ করার একমাত্র হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে দল ক্ষমতায় আসার পরে কারা বেশি বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন তা নিয়েও। দলের একটি অংশ মনে করেন, এসব আলোচনার সূত্রপাত হওয়া মানে একটি অংশকে ঘায়েল করা। আরেকটি অংশ মনে করেন, এসব আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, এগুলো ইতিহাসের একটি অংশ। এসব ঘটনা পাশ কাটিয়ে রাজনীতি করা সম্ভব নয়।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সম্মেলনকে ঘিরে সর্বশেষ সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে আমাদের দলীয় নেতাদের কার কী ভূমিকা ছিল তা এখন মুখরোচক গল্প হয়ে উঠেছে ধানমণ্ডিতে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এর ফলে এক পক্ষ যেমন অসন্তুষ্ট, আরেক পক্ষ তেমনি সন্তুষ্ট। সন্তুষ্ট হওয়া নেতারা মনে করেন, ওয়ান ইলেভেনে ভূমিকা রাখায় তারাই নেতা হওয়ার দাবিদার।’

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর ধানমণ্ডি কার্যালয়ে ওয়ান ইলেভেনের আলোচনা শুরু হলে সম্পাদকমণ্ডলীর এক নেতা সেখান থেকে উঠে যেতে বাধ্য হন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘সম্মেলন এসেছে তাই বিভিন্ন নেতাকর্মীর নানা জল্পনা-কল্পনা থাকতে পারে। আশা-নিরাশার বিষয়টিও নেতাকর্মীদের ভেতরে ফুটে উঠবে। তিনি বলেন, এসবের মধ্য দিয়ে যারা যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী তারাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগে নেতা নির্বাচন হয় সম্মেলনের ভেতর দিয়ে। তাই এ দলটির নেতা কে হবেন, না হবেন সেটা আগে থেকে বলা যায় না। হানিফ বলেন, যারা যোগ্য, মেধাবী, দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন তারাই নেতা হয়ে কমিটিতে আসবেন।’

এ বিষয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা সম্মেলনের মধ্য নিয়ে নেতা নির্বাচন করে। তাই আগে থেকে নেতা কে হচ্ছেন তা বলা মুশকিল এ দলে। তিনি বলেন, যোগ্যতা-দক্ষতা বিচার বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যত নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।’ মতিয়া বলেন, ‘সম্মেলন এসেছে নিয়ম অনুযায়ী তা হবে এবং নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। খবর- বাংলা ট্রিবিউন এর

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।