আগামী মঙ্গলবার পাহাড়ের প্রথম রামগড়ে ইমিগ্রেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

NewsDetails_01

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্থলবন্দর রামগড় দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হচ্ছে আগামী ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার। রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সারোয়ার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামগড় স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন ভবনের কার্যক্রম উদ্বোধনে করবেন। ইতোমধ্যে রামগড় স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালুর লক্ষে টার্মিনাল শেড, ব্যাংক, কাস্টমস, বিজিবি ও পুলিশের সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে, ২০২১ সালের মার্চে রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষে ফেনী নদীর উপর নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ এর উদ্বোধন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্থলবন্দর রামগড় দিয়ে ইমিগ্রেশন চালুর সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দুই দেশের সরকার প্রধানের সম্মতিতে সেপ্টেম্বরে ইমিগ্রেশন চালু হতে পারে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্ভাবনাময় এ বন্দরে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে দ্রুত আমদানী রপ্তানী কার্যক্রম চালুর দাবি ব্যবসায়ীদের। আর পাহাড়ের প্রথম স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন চালু হতে যাওয়ার খবরে আনন্দিত স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাত্রী পারাপারে প্রস্তুত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্থলবন্দর রামগড়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুমের সাথে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ দিয়ে সেপ্টেম্বরে ইমিগ্রেশন চালু হওয়ার কথা চলছে দুই দেশে। ইতোমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনায় সবধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো।

রামগড় স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক সঞ্জয় বাড়ৈ বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত রামগড় স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন চালু হতে যাচ্ছে জেনে আনন্দিত পাহাড়ের মানুষ। পাহাড়ে বসবাসরত বহু ভাষাভাষী মানুষের অনেক স্বজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন দুই দেশে, আছে সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ও। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হলে সে বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলছেন অনেকে। পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও বিকাশ ঘটবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

NewsDetails_03

খাগড়াছড়ির বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, এই বন্দর এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া চালুর মধ্য দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাত রাজ্যের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক এবং শিক্ষাগত সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া ঘটবে।

খাগড়াছড়ি চেম্বার অব কমার্স-এর ভাইস-চেয়ারম্যান হাজী মো. কাশেম বলেন, ইমিগ্রেশন চালুর পর দ্রুত আমদানী রপ্তানী কার্যক্রম চালু হলে উপকৃত হবে দুই দেশ। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন সে লক্ষ্যে মানি এক্সচেঞ্জ সুবিধা রাখার দাবি এ ব্যবসায়ী নেতার।

সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’র সদস্য কংজরী চৌধুরী বলেন, রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে সীমান্তকুল ঘেঁষা ফেনী নদীর ওপর ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু ১ চালু হয় ২০২১ সালের মার্চে। এ বন্দর চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে কম খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য আমদানী রপ্তানী করা যাবে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরও রামগড়ে শুল্ক স্টেশন চালু ছিলো। সীমান্তবর্তী নানামুখী জটিলতায় সেটি মুখ থুবড়ে পড়েছিলো। পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের অর্থনৈতিক তৎপরতাকে এগিয়ে নিতে সীমান্ত অর্থনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছেন। কারই অংশ হিশেবেই এটি চালু হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে রাঙামাটির বরকলের ঠেগায়ও একটি বন্দর চালু হবে। সাজেক এবং পানছড়ি দিয়ে আরো দুটি সীমান্তহাট চালুর বিষয়েও দুই দেশেরে মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

তিনি, রামগড় স্থলবন্দর পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন