আত্মগোপনে বান্দরবানের জননেত্রী সৈনিক লীগ নেতা বাবুল কর্মকার

গত শুক্রবার পাহাড়ের অন্যতম নিউজ পোর্টল পাহাড়বার্তা’য় “বান্দরবানের রাজনীতিতে নতুন দোকান ‘জননেত্রী সৈনিক লীগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। এই বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করে স্থানীয় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও। যার কারনে গা ঢাকা দিয়েছে জননেত্রী সৈনিক লীগ নেতা বাবুল কর্মকার। সেই সাথে এই সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও এখন গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জেলার মতো বান্দরবানেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংগঠন হিসাবে নিজেদের জাহির করে ভুঁইফোড় সংগঠন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন দোকান নামে পরিচিত জননেত্রী সৈনিক লীগ নামে সংগঠন গড়ে তোলে আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুন্ন করার কারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

একাধিক সূত্র পাহাড়বার্তাকে জানায়, গতকাল শুক্রবার ভুঁইফোড় এই সংগঠনটির জেলা শাখার সহ-সভাপতি বাবুল কর্মকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে পাহাড়বার্তা’র একটি রিপোর্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে এই নেতা আত্মগোপনে চলে যান। সংগঠনটির সভাপতি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মরত মঈন উদ্দিন বাবলু বিএনপির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সহ সভাপতি বাবুল কর্মকার ওরফে বাবু মনি দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করার সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তারা হঠাৎ তারা জননেত্রী সৈনিক লীগ নামে সংগঠন গড়ে তোলেন।

এদিকে আজ শনিবার বাবুল কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে শোকজ করেছে জেলার সৈনিক লীগের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুদি দোকানি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাবুল কর্মকারকে শোকজ করা হয়।

জানা যায়, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মরত মঈন উদ্দিন বাবলুকে সভাপতি ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (মুদি দোকানদার) কে সাধারণ সম্পাদক, বাবুল কর্মকার ওরফে বাবুমনি (হোটেল ব্যবসায়ি) কে সহ সভাপতি ও মো: জাকিরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তবে নতুন এই সংগঠনটি সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কিছুই জানেনা বলে জানিয়েছেন তারা।

বান্দরবান শহরের ৬ নং ওয়ার্ডে জননেত্রী সৈনিক লীগের সাইনবোর্ড। ছবি-পাহাড়বার্তা

জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একে এম জাহাঙ্গীর পাহাড়বার্তাকে বলেন, জননেত্রী সৈনিক লীগ নামে আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নেই। কারা এটি করছে, তা জেলা আওয়ামী লীগের জানা নেই, কেউ যদি এই ধরণের সংগঠন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ, ভূমি জালিয়াতি, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও কমিটিতে জনবল নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। ইতিমধ্যে সংগঠনটির পৌর কমিটি না করে ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।

এই ব্যাপারে জননেত্রী সৈনিক লীগের ৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি দিলীপ শীল পাহাড়বার্তাকে শনিবার সন্ধ্যায় ফোনে জানান, মাত্র অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে আমাকে ও উত্তম মজুমদার কে সম্পাদক করে ৩১ বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন জননেত্রী সৈনিক লীগের জেলা কমিটি।

শুক্রবার পাহাড়বার্তার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই সংগঠনের নেতা হোটেল থ্রী স্টারের মালিক, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল এর নেতা, কথিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাঙ্গু ডটকমের প্রকাশক বাবুল কর্মকার গা ঢাকা দেন। সেই সাথে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও সটকে পড়েছেন, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির নেতা কর্মীরা।

বাবুল কর্মকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবী করেন, অনেকে না জেনে আমার প্রসঙ্গে লিখেছেন এবং প্রশাসনকে সম্প্রিত্য করেছেন। আমি জননেত্রী সৈনিক লীগ নিয়ন্ত্রন করিনা, এটি প্রহসন মূলক।

প্রসঙ্গত,অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের শুরুতে সদর থানার ওসি থ্রী স্টার হোটেলে অভিযান চালিয়ে পতিতাসহ এই বাবু মনিকে আটক করলেও বিশেষ তদবিরে তিনি ছাড়া পান।
সদরের পলু পাড়াতে উসাইন মার্মা নামের একজনের জমিও দখল করেন। জমি বিক্রেতার স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া হলফনামা তৈরী করে সুয়ালক ইউনিয়নে ৮০ শতক জমি গ্রাস করার অপচেষ্টা করার মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রতারক বাবুল বিশ্বাস ওরফে যমুনা বাবুলের অন্যতম সহযোগী বাবুল কর্মকার ওরফে বাবু মনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।