আনন্দঘন দিন কাটলো বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের

পিকনিকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দে মেতে উঠে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
নানা আয়োজনে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসব উদযাপনে শীতের সকালকে উপেক্ষা করেই র্নাসারি শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া শির্ক্ষাথীরা জড়ো হতে থাকে স্কুলের ক্যাম্পাসে। দিনভর হেসে খেলে উদযাপন করে পিকনিক উৎসব।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয় কেউ মা, আবার কেউ বাবার হাত ধরে। তারপর একে একে অংশ নেয় মোরগ লড়াই, একশ মিটার দৌড়, বিস্কুট দৌড়সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। অভিবাবকদের জন্যও আয়োজন করা হয় বিশেষ খেলাধুলার। অংশ নেওয়া অভিবাবক শিক্ষার্থীরা জিতে নেয় আকর্ষনীয় সব পুরস্কার।

এদিকে পিকনিককে কেন্দ্র করে স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয় লোকজ মেলা। মেলায় শিক্ষার্থীদের উপভোগের জন্য আনা হয় গ্রামবাংলার নাগরদোলা, চড়কা, ঘোড়ার গাড়ি। লাউড স্পিকারে বাজানো হয় গ্রামবাংলার বিখ্যাত গান।

সকাল থেকে দুপুর অবধি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহি আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কেউ বা চড়ে বসে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে আবার কেউবা নাগরদোলায়। ঘোড়ার গাড়ি আর নাগরদোলায় দোল খেতে খেতে শিশু শিক্ষার্থীরা এক অন্য রকম অনুভ‚তি নিয়ে পার করে পুরো সময়।

প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক এ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানস্থলের এক প্রান্তে বসে হাওয়াই মিঠাই খাওয়ার আয়োজন। শিশু শিক্ষার্থীদের আনন্দের বাড়তি যোগ দিতে দূর এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয় হাওয়াই মিঠাই। শিশুদের বাড়তি আনন্দ যোগায় গ্রাম বাংলার এই মুখরোচক খাবারটি। শিক্ষক অভিবাবকদের তত্বাবধানে সারিবদ্ধভাবে শিশুরা গ্রহন করে ওই খাবার। পুরো অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন অভিবাবকরা। সন্তানদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের এমন মজার প্রতিটি আয়োজনে অংশ নেন তারা।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
নার্সারীর এক শিক্ষার্থীর পিতা থুইসাচিং মার্মা বলেন, বছর জুঁড়ে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে। তাদের খেলাধুলার তেমন সময় হয়না। প্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজনের জন্য তারা অধীর অপেক্ষায় থাকে। অপর অভিবাবক আতাউর রহমান বলেন, সকাল থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছি, অনেক মজা হচ্ছে।

এদিকে অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মো. ইয়াকুব বলেন, এমন আয়োজন করতে পেরে আমরা খুশি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর অভিবাবকদের এমন অংশগ্রহন আমাদের অনুপ্রাণিত করে। সকলের সহযোগিতা থাকলে আগামিতে আরও সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

এদিকে উৎসবে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে থাকতে পেরে উচ্ছ¡সিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকারাও। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, একসাথে অনেক ছেলে মেয়েকে দেখে ভালো লাগছে। তাদের দুরন্তপনা দেখে অবিভ‚ত না হয়ে উপায় নেই। তাদের আনন্দে আমরাও আনন্দিত। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।