আমি পতিতা নই, বিশ্বাস করো

33-copy1ঠিক সময়টা দু’টা বছর আগে। নীলাম্বরী উচ্চ মাধ্যমিক গন্ডী পেরিয়েছে কেবল।জীবনের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য নিজ গ্রাম থেকে অচেনা শহরে পারি দেয়। নতুন শহর,নতুন মুখ। পৃথিবীটাই এত্ত রঙীন কখনই ধারনাই ছিলো না তার। তবে এই রঙীন শহরের মাঝেই যে নোংরা হাহাকার রয়েছে তা মনে করিয়ে দেবার মতো কেউই ছিলো না। ১৮ বছরের কিশোরী কি বা বুঝে আর। বুঝে কেবল সুন্দর মুখ মানেই ভালো,পবিত্র।

অনেকটা সময় কেটে যায় নি:সঙ্গতায়। মায়াবী চোখ আর পবিত্র মন টা একজন ভালোবাসার মানুষের অভাব অনুভুতির আগুন জ্বালায়। অভাব যেখানে স্বভাব সেখানে দিশেহারা। এমনটা করে কাটাতো সময়, একটা সময় মুখোশধারী ভালোবাসার, ছদ্ম প্রেমিক এর ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে নিলাম্বরী। ভেবে নেয় জীবনের এই রকমই সুন্দর,অানন্দময়ী, মায়াবী। প্রেমিক ফারহিদ নামের অধিকারী। ফারহিদ স্বপ্ন দেখায় দিনের পর দিন। আর নিলাম্বরী সেই ভুল স্বপ্নে বিভোর হতে থাকে দিনের পর দিন। নিজেকে হারিয়ে ফেলে নিজের কাছ থেকে। স্বপ্ন কাচায় নিজেও সেই ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে। সুখের স্বপ্ন দেখে দিনের পর রাত অব্দী। কাটতে থাকে, কথা হতে থাকে ফোনের ও পাশে থাকা মানুষটার সাথে।

একটা সময় বয়স বাড়তে থাকে সম্পর্কের। এক সময় নাড়া দিয়ে উঠে ফারহিদ এর নরপশু মন। জেগে উঠে কামনা বাসনার। জেগে উঠে কিশোরীর বাড়ন্ত বয়সের রুপ দেখার। সেভাবেই অাগাতে থাকে ফারহিদ। ফারহিদ এক দিন মুঠোফোনে আকুল অাবেদন করে বসে। নানান রকমের ইনিয়ে বিনিয়ে ভালোবাসার দোহায় দিয়ে বশে আনে নিলাম্বরীর সরল মনটাকে।
উদ্দেশ্য অর্ধেকটাই হাসিল করতে পেরেছে ফারহিদ। এভাবে চললে ভালোই হতো। তবে বিধাতার চরম পরীক্ষার্থী সম্মুখীন হয় নীলাম্বরী। ফেল করে বসে সেই পরীক্ষায়। বিলিয়ে দেয় নিজের সবকিছু। ভেবে বসে এটাই হয়তো ভালোবাসা। রুমডেট চলতে থাকে দিনের পর দিন। হঠাৎ মনে পরে আচ্ছা এই শহরে কেনো এসেছে সে ! কি স্বপ্ন ছিলো তার ! ভুলে গেছে। কিছুই মনে করতে পারেনা নীলাম্বরী। হুম এটাই হওয়ার কথা।নেশায় মাতাল, নেশা কেড়ে নিয়েছে তার স্বপ্ন। ভুলিয়ে দিয়েছে বাবার হাত ধরে দেয়া কথাগুলো, মায়ের নরম গালে চুমু খেয়ে কথা দেয়া,ভুলে গেছে সব।
যখন সব বুঝতে পেরে নিজেকে আবার উদ্দেশ্য নিয়ে আসার প্রচেস্টা করে কিন্তু তা অনেক দেরি করে ফেলে নিলাম্বরী। ওই যে পরে গেছে আর উঠতে পারেনি। বাধা আসতে থাকে ওপারের মানুষটার কাছ থেকে। মানুষটাও কেমন ইদানিং অপরিচিতর মতো আচরন করে। কিন্তু কেনো? জানতে চায় ফারহিদ এর কাছে। কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আসেনা। অন্যদিকে ফারহিদ খুবলে খুবলে খেতে নিলাম্বরীর পবিত্র শরীর আর
মস্তিস্ক কে।
একটা সময় ভালোবাসার বলি দেবার চিন্তা মাথায় আসে ফারহিদের। যেই সময়টা মানুষটার পাশে থাকার খুব প্রয়োজন সেই সময়টাতে তাকে একা ফেলে চলে যায়। নিলাম্বরী সামনে সব কিছু পরিষ্কার হতে থাকে। ঘৃনা জন্মাতে থাকে এই বিশাল পৃথিবীর উপর। হাজার প্রশ্ন তার সামনে, এখন কি হবে, কি করবে? নিজেকে শেষ করে দেবার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়েছে, তবে মরেনি।68i
মরবে বেই বা কি করে স্রস্টা যে তাকে কস্ট দেবার পর, সুখের বাসর ঘর সাজিয়ে রেখেছে। তাই বাঁচিয়ে রেখেছে। অনেক দিন পর ফারহিদকে ফোন দেয়, খোঁজ নেয়। একটা সময় তর্কের মাঝে ফারহিদ নাকি সম্পর্কের শেষের সময় বলেছিলো তুই আর পড়ালেখা করে কি করবি? তোরে তো নষ্ট করে দিয়েছি। এখন তোর কিছুই নায়। কেউ আসবে না তোর কাছে, ভালোবাসবেনা তোকে,তুই একটা পতিতা। যে অাসবে,ভোগ করবে ছেড়ে দিবে।
নীলাম্বরী ভালোবাসার মানুষটার একথা অনেক ক্ষন ধরে সহ্য করলেও শেষ কথা মানতে পারেনি। আকুতি,জল ভেজা নয়নে বলেছিলো
—–আমি পতিতা নই ফারহিদ, প্লিজ এভাবে বলোনা
তারপর………………..
পাঠক উপরের কারিগর ( সৃষ্টিকর্তা) না খুব ভয়ংকর। তিনি কি চান কেউ জানিনা, তার লীলা তো লীলাই। আজ নীলাম্বরী পতিতা নয়। আজ
একজন বিসিএস ক্যাডার, একজন মা, একজন স্ত্রী, একটা সুন্দর সংসারের রমনী। সুন্দর জীবন। ভুলে গেছে সেই সব। কেটে গেছে সব কালো দাগ।
কি ভাবছেন কেউ এসে তাকে দয়া করেছে? নাহ ভাই। নিলাম্বরী এই জীবন পাওয়ার যোগ্য। হুম যোগ্য। শুভকামনা নিলাম্বরীর জন্য।
নিলাম্বরীর বানী—-জীবনটা কখনও থেমে থাকে না। কেউ কারোর জন্য পরে থাকে না,পিছিয়ে থাকেনা। পিছিয়ে যায় নিজের জন্যই। তাই মরার সিদ্ধান্ত নেবার আগে একবার মনে করবেন আরো কটা দিন বেঁচে
দেখি না কি হয়
কথা দিচ্ছি ভালো কিছু পাবেন।

লেখক-
তাসলিম হাসান
নিউগুলশান,বান্দরবান।
ইমেইল: [email protected]

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।