আলীকদমে আগুনে সব হারিয়েছে তারা, তবুও দেখা নেই জনপ্রতিনিধিদের

বান্দরবানের আলীকদমের খুইল্যামিয়া পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫টি ঘর ও ৭টি দোকান পুড়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস। তিন ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৪টায় আগুনের সুত্রপাত হয়। আগুনে ৫টি বসতঘর ও ৭টি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ধারণা করছি। নগদ ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আলীকদম ও লামা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আশেপাশে কোন পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে।

আগুনে পুড়ে যাওয়া ফার্নিচার দোকানের মালিক তুষার ধর বলেন, আগুনে পুড়ে ৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাদের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধি পরিবারও ছিল। অন্যদিকে ৭টি দোকান পুড়ে যায়। তারমধ্যে ৫টি ফর্ণিচার ও কাঠের দোকান ১টি মুদি দোকান এবং ১টি মেশিনারী মেরামতের দোকান ছিল।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে মোঃ আব্দু সোবাহান, কেশপ ধর, তুষার ধর, মোঃ হারুন এর কাঠের দোকান এবং মোঃ শাহ আলমের ফর্ণিচারের দোকান পুড়ে যায়।

অন্যদিকে মহিউদ্দীনের মুদি দোকান এবং নজরুল ইসলামের মেশিনারী মেরামতের দোকান পুড়ে ছাই হয়। এই অগ্নিকান্ডে ৫টি ভাড়াবাসায় থাকা পরিবারের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে তারা হচ্ছেন মোঃ শামসুল আলম, মোঃ নুরুল হক, ফারজানা আক্তার, সালাউদ্দীন এবং ছেনুয়ারা বেগম।

বাড়ির মালিক ছেনুয়ারা বেগম বলেন, আগুনের সুত্রপাত কোথায় থেকে জানি না, যখন আগুন দেখতে পায় ততক্ষণে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুবা ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, পাঁচটি পরিবারকে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল এবং হাড়ি-পাতিল, বালতি,মগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি আরও সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ নাছির উদ্দিন সরকার ঘটনা স্থলে যান। পুলিশ সদস্যদের আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মালামাল রক্ষাসহ সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশ দেন ওসি।

এদিকে ভোর রাতে খুইল্যা মিয়া পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় কোন জনপ্রতিনিধির দেখা পাওয়া যায়নি।

উল্টো চিত্র ছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি, আগুন নেভাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তারা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।