আলীকদমে ইউএনও এর বদলিতে পাথর খেকোদের উল্লাস

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সায়েদ ইকবালকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব হিসেবে কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনে বদলি করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে ১৯ সেপ্টেম্বর বদলীর প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

যোগদানের পর থেকে আলীকদম সদরে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং স্থানীয় পাথর পাচার সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করেন ও স্থানীয় উত্তোলিত পাথর উন্নয়ন কাজে ব্যবহারে না করতে উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করেন। যার ফলে সদরে পাথর উত্তোলন ও ব্যবহারে ছিল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। সরকারি স্থাপনা ও খাস জায়গায় বেদখলে থাকলেও তিনি তার উদ্ধার করেন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর এডিবির বিশাল অংশ কোটেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া হলেও প্রথমবারের মত কোটেশনের প্রকল্পগুলো উম্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করাসহ রোহিঙ্গা ভোটার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেন এই কর্মকর্তা। এসব কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক গণমাধ্যমকর্মীর রোষানলে পড়েন এই কর্মকর্তা।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণে গৃহহীনদের ঘরে দরজা ও জানালায় লিন্টার দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ঘর মজবুত করতে ঘরে লিন্টার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, নির্দিষ্ট বরাদ্দের মধ্যে এই কর্মকর্তা।আলীকদমের সাধারণ মানুষের কাছে যতটা সৎ ও ভাল কর্মকর্তা কিন্তু তার উল্টো স্বার্থ বঞ্চিত সিন্ডিকেটের কাছে।

গণমাধ্যম কর্মী রাসেল মজুমদার বলেন, তার মহৎ ও ভাল উদ্যোগের কারণে পরিবেশ চরম ধ্বংস খেলার থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেয়েছে। একটি সিন্ডিকেট তাহার বদলির অপেক্ষায় ছিল। আবার পরিবেশ ধ্বংস ও সরকারি খাস জায়গায় দখলের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, অনেককে দেখলাম খুশিতে পার্টি করছে।

সদরে চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন বলেন, এমন ভাল ও সৎ কর্মকর্তা আলীকদমের জন্য আর্শীবাদ। বিভিন্ন সময়ে কিছু স্বার্থবাদী লোকের মিথ্যা অভিযোগ ও তিলকে তাল করে নিজেদের স্বার্থ৷ হাসিলের চেষ্টা করলে বারংবার ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মোঃ সায়েদ ইকবাল আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ১৯ এপ্রিল ২০১৯ সালে যোগদান করেন।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Suman বলেছেন

    পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলন, নদী দখল করে বাড়ী নির্মাণ কত কিছু প্রতিদিন খবরের কাগজে ছাপ হয়। কিন্তু দেখিনি কোনদিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে!! একজন প্রতিবেদকদের কাজ কি শুধুমাত্র অন্যায়ের শুরুর দিকের প্রতিবেদন তুলে ধরা। প্রতিবেদনের আলোকে প্রশাসন কী কী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা তুলে ধরা কি প্রতিবেদক বা তার সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা।
    আজকের এই প্রতিবেদন বা এই খেকো’দের কি নিজ নিজ জেলার কর্তৃপক্ষরা জানেনা? অবশ্যই জানেন! তাহেল তার চুপ কেন? তা নিশ্চই সাধারণ জনগণ জানেন। নির্বাচন সুস্থ হলে হয়তো কর্তৃপক্ষরা বুঝতে পারতেন, তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ জনগণ ঢের ওয়াকিবহাল!!!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।