আলীকদমে ওয়ার্ড বয় কর্তৃক ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা ফাঁস !

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম কর্তৃক আয়া রীতা প্রভা সুশীল এর স্বামী টিটু শর্মাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনার অভিযোগ এবং অভিযুক্ত আবুল কালাম ও টিটু শর্মার বিরুদ্ধে তাকে মারার পাল্টা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গত সোমবার আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া রীতা প্রভা সুশীল এর স্বামী টিটু শর্মার সাথে ব্যক্তিগত পূর্ব বিরোধের জের ধরে ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম ইয়াবা দিয়া ফাঁসানোর পরিকল্পনার বিষয়টি অডিও রেকর্ডিংসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে টিটু শর্মা বলেন, তার স্ত্রী রীতা প্রভা সুশীল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন আয়া।
কিছুদিন পূর্বে ষ্টাফ কোয়াটার বরাদ্দ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। উক্ত বিবাদের বিষয়টি মীমাংসাও হয়ে যায়। কিন্তু ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম টিটু শর্মার উপর ক্ষুদ্ধ হয়। এরই প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম স্থানীয় বাসিন্দা আনিসের মাধ্যমে ইয়াবা দিয়া টিটু শর্মাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করার বিষয়টি ওয়ার্ড বয় কালাম ও আনিসের মধ্যে মোবাইলে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং টিটু শর্মা কৌশলে সংগ্রহ করে নেন বলে জানা যায়।
এ দিকে টিটু শর্মার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম কে মারধর করার ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। তার লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন যে, টিটু শর্মার স্ত্রী রীতা প্রভা সুশীল যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার বিষয় নিয়া তার স্ত্রী ফাতেমা জান্নাত হান্না’র (নার্স ইনচার্জ) সাথে বাক-বিতন্ডা ও কথা কাটাকাটির জের ধরে টিটু শর্মা তাকেও মারার হুমকি ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। অপরদিকে ওয়ার্ড বয় আবুল কালামের অভিযোগের সাক্ষী সুকান্ত দে অভিযোগ করেন যে, তাকে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন! যদি সে সাক্ষী না দেয় তাহলে তার মা-বাবা দু’জনকে অন্যত্রে বদলী করে দেবে মর্মে হুমকি দেয়।
এদিকে অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুর রহমান সুকান্ত দে’র পরিবারের কেউ বাসায় না থাকা স্বত্তে¡ অত্র কর্মকর্তা নিজেই তার বাসায় গিয়া তার সহধর্মীনির নিকট হইতে জোরপূর্বক টিটু শর্মার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুকান্ত দে’র স্ত্রী শিউলী দে (ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম এর ২য় সাক্ষী) জানান, নার্স ইনচার্জ হান্না ও তৎস্বামী আবুল কালাম তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে টিটু শর্মার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী জানান, উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে বাদ দিয়ে কিসের স্বার্থে অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুর রহমান সাক্ষীর বাসায় গেলেন অভিযুক্ত বিবাদীদের নিয়ে? ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম ডাঃ শহিদুর রহমানের আশ্রয়-পশ্রয়ে ডিউটি চলাকালীন সময়ে লুঙ্গি পরিধান করে কর্মস্থলে আসার বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার হয় না এবং দীর্ঘদিন যাবৎ একই কর্মস্থলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চাকুরীরত থাকায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খুশি করে অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে বলে জানান।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুর রহমান জানান, উভয়পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। সুকান্ত দে’র বাসায় কেউ না থাকা সত্তে¡ও তদন্ত কমিটি ব্যতীত ওয়ার্ড বয় কালাম ও নার্স ইনচার্জ হান্নাকে নিয়ে বাসায় যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ওয়ার্ড বয় কালাম তার সাক্ষী তদন্ত কমিটির সম্মুখে এসে সাক্ষী দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে উৎসাহ দিতে তিনি নিজেই বাসায় গেছেন এবং ওয়ার্ড বয় কালাম ও তার স্ত্রী আগে থেকেই বাসায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।
বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ অংশৈ প্রু বলেন, আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কেউ অন্যায় করলে তাকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।