আলীকদমে ডাইরিয়ায় ৬ জনের মৃত্যু : আক্রান্ত শতাধিক

হেলিকপ্টারে পাঠানো হলো মেডিকেল টিম

বান্দরবানের থানচি উপজেলার পর এবার আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে ডায়রিয়ার প্রকোপে গত চার দিনে ৯টি পাড়ার ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত প্রায় শতাধিক। আর ডাইরিয়ায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সোমবার দুপুরে হেলিকপ্টারে পাঠানো হয়েছে মেডিকেল টিম। আলীকদমে ডাইরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন, কুরুকপাতা ইউনিয়নের মাংরুম পাড়ার মাংদম ম্রো, ঙানলি ম্রো, রেংচেং ম্রো, ইয়ুংচা পাড়ার রামদন ম্রো, কাইসার ম্রো ও তুমলত ম্রো।

সোমবার (১৪ জুন) আলীকদমের কুরুক পাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতং ম্রো বলেন, গত চার দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছয় জনের মারা গেছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৯টি পাড়ার মানুষ। বর্তমানে অনেকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মেনরুম পাড়া,সোনাবি পাড়া, কচ্চপ ঝিরি,আলিস্বা মনি পাড়া,রুইথন পাড়া,তংলেইং পাড়া,মেনলিউ পাড়া,মাংরুম পাড়া,আমেন পাড়ায় আক্রান্ত হার বাড়ছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ মো.শাহারিয়া আলম জানান, বর্তমানে উপজেলার করুকপাতা ইউনিয়নের ৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আরো জানা গেছে, বান্দরবানের থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমাসহ বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ী গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র পানির সংকটের কারনে ঝিড়ি ও ঝর্ণার পানি পান করতে হয় স্থানীয়দের। এর ফলে ডাইরিয়া, পেটের পিড়াসহ বিভিন্ন ব্যাধিতে আক্রান্তের এবং মৃত্যু খবরও পাওয়া যায় প্রতি বছর, এবারও এর ব্যাতিক্রম হয়নি।

তবে এনজিও কর্মী ও করুকপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাকনাও ম্রো বলেন, গত শুক্রবার (১১ জুন) থেকে সোমবার (১৪ জুন) পর্যন্ত মেনকিউ পাড়া, মারুম পাড়ায় ডায়রিয়ায় রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ও বিভিন্ন পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।

এদিকে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারনে ডাইরিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারনে দূর্গম এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে, অনেকে ডাইরিয়ার স্যালাইন সংগ্রহ করছে বাজারের বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা: অংসুই প্রু বলেন, আলীকদম-থানচি সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি পাড়ার লোকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। ছয়জন মারা গেছে, দুইটি মেডিকেল টিম সেখানে পৌঁছেছে। আরও ২টি টিম প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র নিয়ে রওয়া হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ে সাধন করে আরো মেডিকেল টিম প্রেরণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে জেলার থানচি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তের পাতওয়া ম্রো পাড়ায় ১৬ পরিবারের মধ্যে ৯-১০ পরিবারের সব সদস্য ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং সেখানে পাঠানো হয় মেডিকেল টিম, এরপর সেখানে ডাইরিয়া পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।