আলীকদমে রাস্তার কাজে অনিয়ম, জানেনা পিআইও কর্মকর্তা

শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ভাঙ্গন

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় সড়ক নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পিআইও কর্মকর্তার যোগসাজসে নিন্মমানের ইট, বালির পরিবর্তে মাটি ও গাইড ওয়াল ও ড্রেইনে সিমেন্ট কম দেওয়ার কারনে কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

রাস্তার কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, “এখানে পিআইও অফিসের কারও অভিযোগ নেই, আপনার এত মাথাব্যথা কেনো?” প্রতিবেদককে এমন পাল্টা প্রশ্ন করেছেন বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার আবু বক্কর নামের এক ঠিকাদার।

ঘটনাটি আলীকদম উপজেলার ৩ নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে মেরিনচর এলাকায় “আলীকদম পৌঁয়ামুহুরী মেইন রোড থেকে মেরিনচর সোনে স্কুল পর্যন্ত রাস্তা এইচবিবি করণ প্রকল্পের কাজে। এর আগেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে পাহাড় বার্তায় “এক বক্করেই আলীকদম সড়কে সর্বনাশ” শিরোনামে নিউজ প্রকাশ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের আওতায় প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে করা কাজটি করছেন মো: রিটন নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রিটন নামে থাকলেও কাজ করছে স্থানীয় ঠিকাদার আবু বক্কর। এই স্থানীয় ঠিকাদার আবু বক্করের বিষয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা শর্তেও বিভিন্ন ভাবে অফিসকে ম্যানেজ করে কাজ চলছে দীর্ঘদিন। নির্মাধীন এইচবিবি সড়কের কাজের সিডিউল থাকলেও কোন রকম সিডিউল মানা হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়, রাস্তার কাজ ৯০% শেষ হয়েছে, বাকি রয়েছে ১০%। পুরোদমে নিম্নমানের কাজ করে জুন ক্লোজিং এর আগেই ফাইনাল বিলের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ঠিকাদাররা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে মাতামুহুরী নদী থেকে তোলা বালি, পাহাড় কেটে পাহাড়ের বালি দেওয়া হয়েছে রাস্তায়, রাস্তায় ৬ ইঞ্চি বালি ধরা থাকলেও বালি দেওয়া হয়েছে ১ ইঞ্চি। ব্রিকসলিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছে নিন্মমানের ভাঙা ইট। বক্স কাটিং থাকলেও কোনো কোনো জায়গাতে কোনো বক্সকাটিং করা হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী গাইড ওয়াল, এল ড্রেন ও ড্রাম সিড থাকলে কাজ করা হচ্ছে নিম্নমানের কংক্রিট দিয়ে। রাস্তার এল ড্রেন সিডিউল অনুযায়ী ২ ইঞ্চি ধরা থাকলেও পুরোটা জুড়ে ঢালাই করা হয়েছে ১ ইঞ্চি। ড্রেনে ঢালাইয়ের জন্য ১ বস্তা সিমেন্টের জন্য বালি ৪ বস্তা ধরা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৬ বস্তা কোনো কোনো সময় তারও বেশি। পিআইও অফিসকে মেনেজ করে এমনই একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে এই ঠিকাদার আবু বক্কর।

NewsDetails_03

স্থানীয় বাসিন্দা মংএখ্যাই মার্মা বলেন, এর আগেও ব্রিকসলিংয়ের নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ আনার পর দুই জায়গাতেই অল্প পরিমাণে ইট উঠিয়ে নতুনভাবে বসানো হয়। কিন্তু অর্ধেকের বেশি ইট তোলা হয়নি।

অন্যদিকে রাস্তার একাধিক অনিয়মের বিষয়ে জানানো হলেও পিআইও অফিসের কাউকে এইসব বিষয়ে তদারকি করতে দেখা যায়নি। উনারা এসে ঘুরে চলে যান বলে জানান তিনি।

সংলিষ্ট প্রকল্প কাজের সিডিউল অনুযায়ী মাটি ভরাট, বেড প্রস্তুতকরণ, বক্স কাটিং, ক্যাম্বারিং, বালু ভরাটকরণ, Edging, ব্রিক ফ্লাট সংলিং (Brick Flat Soling), হেরিং বোন বন্ড (SHBB), Post Cast (প্যালাসাইডিং), Bitumen drum sheet (প্যালাসাইডিং), RCC Name Stand with Marble Stone, ইত্যাদি থাকার কথা থাকলেও মানা হচ্ছে না। অন্যদিকে ৩ নং অনুচ্ছেদ উল্লেখিত শর্তানুযায়ী প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী (ইট) পলিটেকনিক /ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ/প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়/প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে গুনগতমান পরীক্ষা করে রাস্তার কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প এলাকায় মজুদকৃত ইট হতে ঠিকাদারের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করবেন। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নথিতে সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও তা করা হয় নি। কাজের ব্যবহৃত ইটগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের।

এই বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মো রিটন বলেন, আমি কাজটি আবু বক্করকে বিক্রি করেছি। এই বিষয়ে আপনি উনার সাথে কথা বলেন।

এই বিষয়ে ঠিকাদার আবু বক্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এখানে পিআইও অফিসের কারও অভিযোগ নেই, আপনার এত মাথাব্যথা কেনো?” আমার কোনো কাজে গড়মিল নেই বলে ফোন বিচ্ছিন্ন করেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ বলেন, এল ড্রেনের কত সিসি ধরা আছে তা আমি জানি না। আমাদের এমন সিডিউল নেই। পরে সিডিউলের প্রসঙ্গে কথা বলার পর তিনি বলেন, হ্যাঁ দুই ইঞ্চি ধরা আছে।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এইসব বিষয়ে জানি না। এইসব কাজ আমাদের অফিসের ওয়ার্কার এসিস্ট্যান্ট আঙ্গুর মিয়া দেখাশোনা করেন বলেই অফিসের কাজে দোহাই দিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্থ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন