আলীকদমে রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ঐক্যজোট

নিচ্ছেন অর্থ

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সদরে এবার অভিনব কায়দায় রোহিঙ্গাদের ভোটার করেছে ১নং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনসহ ৩ ইউপি সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার করণে নির্বাচন কমিশনের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার ফাঁকে সুকৌশলে রোহিঙ্গাদের করনো হচ্ছে ভোটার। স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে আঁতাত করে বেশ সুকৌশলে নগদ অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের স্থানীয় বাসিন্দা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সনদ পত্র ও রোহিঙ্গা নয় মর্মে প্রত্যায়ন পত্র।

আরো জানা গেছে, এক একজন রোহিঙ্গা থেকে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটার করণের অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন, ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাকের হোসেন ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন।

এই বিষয়ে আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন পাহাড়বার্তা’কে বলেন, আমার রোহিঙ্গাদের ভোটার করার কোন সুযোগ নেই, যদি ৮০ এবং ৮৫ সালের দিকে রোহিঙ্গারা এদেশে এসে তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের মাধ্যমে ভোটার হয়ে থাকে, আমরা তাদেরকে বাদ দিতে পারি না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলীকদম সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড থেকে ভোটার আবেদন করা রোহিঙ্গা মো: ইব্রাহিম, তার পিতা হিসাবে সফুর আলমের নাম উল্লেখ থাকলেও মূলত সফুর আলম ইব্রাহিমের শ্বশুর। আবার আবুল কাশেম, (মাতা ফাতেমা খাতুন) নামে এক রোহিঙ্গাকে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করিয়ে দেওয়ার কারণে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাস।

এই বিষয়ে ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাস রোহিঙ্গাকে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করিয়ে দেওয়ার কারণে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষষটি পাহাড়বার্তা’কে অস্বীকার করেন এবং তিনি কোন ধরনের শোকজ পাননি বলে জানান।

NewsDetails_03

অন্যদিকে ৫ নং ওয়ার্ডে জান্নাতুল মুন্নী নামে আরেকজন আবেদন করে। ছালেহ আহম্মেদ নামে পিতার নাম একই থাকলেও ভোটার করণের যে ছালেহ আহম্মেদ এর এনআইডি দেওয়া হয়েছে সেই ছালেহ আহম্মেদ মৃত। প্রকৃত জান্নাতুল মুন্নীর বাবা ছালেহ আহম্মেদ এখনও জীবিত। জান্নাতুল মুন্নীর পিতা ছালেহ আহম্মেদের পিতার নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তার বাবার নাম ইয়াকুব আলী। অন্যদিকে এনআইডিতে দেওয়া ছালেহ আহম্মেদের পিতার নাম মৃত কাশেম আলী।

ভূয়া তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভোটার হওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গা জান্নাতুল মুন্নীর সাথে কথা বলতে মুঠোফোনেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আর ফোন রিসিভ করেনি।

এদিকে সম্প্রতিক সময়ে নাজমা বেগম নামে এক রোহিঙ্গাকে ভোটার করণের কারণে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনকে শোকজ করেছে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন।

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাচন অফিসার নাহিদ শাহারিয়ার পাহাড়বার্তা’কে বলেন, কেউ যদি লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসে তাহলে আমরা সেইসব তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠাই, কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় রোহিঙ্গারা ভোটার হয়ে এদেশে চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করছে। তাছাড়া সৌদিআরব, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়ে শ্রমবাজার দখল করে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন করার কারনে সংকুচিত হচ্ছে শ্রম বাজার, আর এতে উদ্বেগ প্রকাশ করছে স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন,যাদেরকে রোহিঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করা গিয়েছে তাদের ভোটার বাতিল করা হয়েছে, সামনেও করা হবে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ও এক ইউপি সদস্যকে শোকজ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন