আলীকদমে রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে সম্মিলিত জোট
তদন্ত কমিটি করেই দায়মুক্ত প্রশাসন !
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ইউপি চেয়ারম্যান ও ৩ ইউপি সদস্য’র বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। যা নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
আলীকদম উপজেলার ১ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনসহ ৩ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চলতি বছরে ১ মে “রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ঐক্যজোট” নামে একটি লিড নিউজ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল “পাহাড়বার্তা”।
নিউজটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় গত ৬ মে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানাকে সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি “তদন্ত কমিটি” গঠন করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছিলেন তৎসময় আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ও ৬ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনকে শোকজ করা হয়েছে।
তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন, আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো সোহেল রানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো আসাদুজ্জামান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবুজ বড়ুয়া। ৩ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি রোহিঙ্গাদের ভোটারের অভিযোগে ঘটনার সত্যতা প্রাথমিক ভাবে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার করণে নির্বাচন কমিশনের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার ফাঁকে সুকৌশলে রোহিঙ্গাদের করনো হচ্ছে ভোটার। স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে আঁতাত করে বেশ সুকৌশলে নগদ অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের স্থানীয় বাসিন্দা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সনদ পত্র ও রোহিঙ্গা নয় মর্মে প্রত্যায়ন পত্র।
আরো জানা গেছে, এক একজন রোহিঙ্গা থেকে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটার করণের অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন, ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাকের হোসেন ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন।
অনুসন্ধানে উঠে আসে, আলীকদম সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড থেকে ভোটার আবেদন করা রোহিঙ্গা মো: ইব্রাহিম, তার পিতা হিসাবে সফুর আলমের নাম উল্লেখ থাকলেও মূলত সফুর আলম ইব্রাহিমের শ্বশুর। আবার আবুল কাশেম, (মাতা ফাতেমা খাতুন) নামে এক রোহিঙ্গাকে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করিয়ে দেওয়ার কারণে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাস।
অন্যদিকে ৫ নং ওয়ার্ডে পূর্ব পালং পাড়া থেকে ভোটার আবেদন করা জান্নাতুল মুন্নীর পিতা ছালে আহম্মদ পূর্ব পালং পাড়ার বাসিন্দা দেখানো হলেও প্রকৃত অর্থে এনআইডিতে দেওয়া ছালে আহম্মদের বাড়ি উত্তর পালং পাড়ায় এবং তিনি মৃত! অন্যদিকে ভোটার আবেদন করা জান্নাতুল মুন্নীর পিতা জীবিত এবং চিহ্নিত রোহিঙ্গা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, আমার কাছে এখনো কোনো আপডেট নেই। ডিসি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমি রিপোর্টটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, ডিসি অফিস থেকে প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর, মন্ত্রণালয় কীভাবে ব্যবস্থা নেবে বা তদন্ত করবে, সেটি তাদের বিষয়।



