আলীকদমে শিক্ষকদের চাকুরী সরকারি করণে চলছে অনিয়ম ও দূর্নীতি

বিদ্যালয় (ফাইল ছবি)
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ সমাপ্ত প্রকল্পের সদ্য জাতীয়করণকৃত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারী করণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম সহ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ন-ৃগোষ্ঠীর জনসাধারণ এ অভিযোগ তুলেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ইউএনডিপি পার্বত্য চট্টগ্রামে মৌলিক শিক্ষা প্রকল্পের অধিনে আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০১৫ সালে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্প চলাকালীন সময় প্রতি বিদ্যালয়ে স্থানীয় একজন শিক্ষক কর্মরত ছিল। বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের ঘোষনা করা হলে সংশ্লিষ্টগন অনিয়মের আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যমে কাগজে কলমে প্রতি বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষককে কর্মরত দেখায়। ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রæয়ারি সরকার ইউএনডিপি’র বর্ণিত প্রকল্পের ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং প্রতি বিদ্যালয়ে ৪জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারি করা হবে।
মারাং রাইতম লাংথই পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি মারাং ম্রো কমান্ডার, ইয়াংরি মাংক্রাত পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি ইয়াংরিং ম্রো, বিদ্যামনি পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি সতিচন্দ্র ত্রিপুরা, মেনক্য মেনকক পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি মাংক্রি ম্রো জানিয়েছেন, প্রায় ৩ বছর ধরে প্রকল্প সহায়তা বন্ধ, বর্তমানে কাগজে পত্রে দেখানো শিক্ষকগন কখনো অত্র বিদ্যালয় গুলোতে যায়নি কিংবা তাদের চিনে না তারা। কাগজে কলমে দেখানো ভুয়া শিক্ষকদের চাকুরী সরকারী না করে জেলা পরিষদের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার দাবী তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসাধারণ।
আলীকদম উপজেলার চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম জানান, বিদ্যালয়গুলো সরকারী করণের প্রজ্ঞাপন জারির পর ইউএনডিপি’র জনৈক সাবেক কর্মী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে শিক্ষকদের চাকুরী সরকারী করণের জন্য প্রকাশ্য উৎকোচ আদায় করেছে। বিগত দিনে বিদ্যালয়ে কখনো গমন করে নাই এবং বিদ্যালয় চিনে না এমন লোকজনকে শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি।
আরো জানা গেছে, নিয়োগের নামে জন প্রতি লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সমাপ্ত প্রকল্পের জনৈক কর্মীর বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর পরই ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮০ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্য উৎকোচ গ্রহণের মহোৎসব চলছে। এক পর্যায়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জন প্রতি লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন বলেও জানান তিনি।
ইউএনডিপি বান্দরবান জেলার কো-অর্ডিনেটর খুশি রাই ত্রিপুরা বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারী করণের বিষয়টি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। ই্উএনডিপি’র সাবেক কোন কর্মী কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সরকারের।
আলীকদম উপজেলার শিক্ষা অফিসার বাসু দেব কুমার সানা বলেছেন, দূর্গমের বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক কর্মরত না থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভা:) রিটন কুমার বড়ুয়া জানান, বিদ্যালয় জাতীয় করণের প্রজ্ঞাপন জারির কপি পেয়েছি, শিক্ষকদের সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের বিষয়ে কোন পত্র আমরা এখনো পাইনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।