আলীকদমে সাংবাদিককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন শাহীন সরোয়ার !

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সংবাদকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ও পাথর উত্তোলনের তথ্য প্রচারের জের ধরে সংবাদকর্মীদের দমন করতে সংবাদকর্মী হাসান মাহমুদের দোকানে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা রেখে সুকৌশলে সংবাদ দেওয়া হয় র‍্যাবকে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দোকান তল্লাশি করে ১টি দেশীয় তৈরী এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৮ শত ৪০ পিস উদ্ধার করে। পরে র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও এই ঘটনা নেপথ্যনায়ক শাহীন সরোয়ার কে আটক করে র‌্যাব-১৫।

ঘটনায় পলাতক আসামিরা হলেন, আলীকদম খুইল্যা মিয়া পাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহিমের ছেলে নজরুল ইসলাম, মোঃ ফরিদ ও মোঃ শাহীন।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দীন সরকার পাহাড়বার্তাকে বলেন, আটককৃত আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। অন্য আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র ও আরেকটি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী হাসান মাহমুদ পাহাড়বার্তাকে বলেন, আসামীদের ধরলে ও জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও অনেক রাঘববোয়ালদের নাম আসবে। মাঠ পর্যায়ে অনেক ধরনের কথা শুনা যাচ্ছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান হাসান মাহমুদ।

এরআগে গত ২৫ ডিসেম্বর মাতামুহুরি রিজার্ভ অঞ্চলের গর্জন পাড়ার শীল ঝিরিতে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ পাথর উত্তোলনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পাথর উত্তোলন কারীদের হামলার শিকার হন সংবাদকর্মীরা। ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল, ক্যামেরাসহ অনেক কিছু এবং দেওয়া হয়েছিল হত্যার হুমকিও। সেই সময় এই চক্রটি সংবাদকর্মীদের ইয়াবা দিয়ে একটি সরকারি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে কৌশলে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে মোবাইলসহ সকল সরঞ্জামাদি উদ্ধারে নজরুল ইসলাম, মোঃশাহীন ও নজরুল ইসলামের ম্যানেজার শাহীন সরোয়ারসহ হামলায় জড়িত অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে সাংবাদিকরা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।