আহ্ হা রে জীবন !

লামায় বাবার পেশায় নেমে কাজ করছে শিশু নীলুফা
সত্যিই তো ‘জীবন যেমন জলে ভাসা পদ্ম পাতা’য় এক বিন্দু জলের ফোঁটা। এই বুঝি ঢেউ লেগে আবার জলে মিশে যাবে! আবার নতুন বিন্দু বিন্দু জল জায়গা করে নিবে। মানব জীবন প্রকৃতির মতোই। অর্থাৎ মানুষ প্রকৃতিরই অংশ। প্রকৃতিতে অন্যান্য প্রান- বৃক্ষরাজি থেকে শুরু করে প্রানীকুল, জীবানু থেকে তিমি- সবকিছুর মূলে রয়েছে জন্ম, জীবন, ও মৃত্যু।
১১ বছর বয়সের সাইফুল ও ১৩ বছর বয়সের নীলুফা, এরা আপন দুই ভাই-বোন। বাড়ী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের সন্ধীপ পাড়ায়। বাবা মো. সেলিম, পেশায় ছাতা মেকানিক। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ জুন শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে ওপারে চলে যান তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে যান ছাতা মেকানিক মো. সেলিম। পাঁচ সদস্যের সংসারে মৃত্যুর সময় একদানা চাউলও রেখে যেতে পারেননি সেলিম। শুধু রেখে গেছেন, চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা অর্থের ঋন। তাই পরিবারে আর কোন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় বাধ্য হয়েই গত ২৩ জুন থেকে দুই ভাই বোনকে শিক্ষা জীবন বাদ দিয়ে নেমে পড়তে হয়েছে জীবন যুদ্ধে।
যে বয়সে বই খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা; অথচ সে বয়সেই দু‘জনকে জীবিকার তাগিদে শিক্ষাজীবন থেকে ছুটি নিয়ে হাল ধরতে হয়েছে পৈতৃক পেশা ছাতা মেরামতের। আর এ কাজ থেকে উপার্জিত টাকা দিয়েই চলে বাবা বিহীন পাঁচ সদস্যের সংসার। যে দিন উপার্জন না হয়, সেদিন চুলায় আগুন জ্বলেনা। তখন ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে পরিবারের সদস্যদেরকে অনাহারেই কাটাতে হয়। বাবা মারা যাওয়ার আগে সাইফুল ও নীলুফা কাটাপাহাড় নূরানী মাদ্রসায় পড়তো, ছেলেটি হেফজখানায়।
নীলুফা বলেন, সারা দিন ছাতা মেরামত করে দেড়-থেকে দুইশ টাকা পাই,এ দিয়ে সংসার চলেনা। তাও ভাগ্য ভালো, বাবা বেঁচে থাকতে মেকানিকের কাজটা শিখে নিয়েছিলাম। না হয়, না খেয়েই মরতে হত। এখন বাবার রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করবো নাকি পরিবারের সদস্যদের খাবার যোগাড় করবো। কিছু ভাবতে পারছিনা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আজিজনগর ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন রানা জানান, শিশু দুটির সামনে গেলে তাদের অসহায়ত্ব ও করুন দৃশ্য সকলের হৃদয় রীতিমত নাড়া দেবে। আসুন শিশু দুটিকে এ কাজ থেকে বের করে, পুনরায় শিক্ষাজীবনে যাবার ব্যবস্থা করে দিই। আর সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিই তাদের পরিবারের প্রতি।
সহযোগিতার হাত বাড়াতে যোগাযোগ করুন- মো. সাহাব উদ্দীন, মোবাইল নং- ০১৭০৮-০৭০৮৭৭, মো. ছাদেক, এডমিন, আজিজনগর ব্লাড ব্যাংক, মোবাইল- ০১৮২৭-৯৩৭৩৩২।
আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন কোম্পানী বলেন, শিশু দুটির বাবা সেলিম মারা যাওয়ার আগেও চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছিলাম। বর্তমানে শিশু দুটি যেন পুণরায় পড়ালেখা করতে পারে, সে ব্যবস্থাসহ পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।