ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ ও গডফাদারদের গ্রেপ্তারের দাবি
পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র
সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আজ সোমবার (১২ মে) রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা।
সকাল ১১টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপায় এসে মহাসমাবেশে রূপ নেয়। এতে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান এবং প্রধান বক্তা ছিলেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পিসিএনপি’র রাঙামাটি সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, পিসিসিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ইসমাঈল গাজী এবং লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সুমন।

বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ গভীর সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে তথাকথিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ইউপিডিএফ-এর বৈঠক প্রমাণ করে, সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
তারা আরও বলেন, “ইউপিডিএফ হচ্ছে সশস্ত্র চাঁদাবাজ, খুনী ও অপহরণকারী গোষ্ঠী। মাইকেল চাকমার মতো দেশদ্রোহীরা আজ নিজেদের গণতন্ত্রের মুখোশ পরিয়ে বিপ্লবের নামে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।”
বক্তারা যে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন: তা হল, ইউপিডিএফ, জেএসএস, কেএনএফসহ সব পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে। মাইকেল চাকমা, সন্ত লারমা, প্রসীত খীসা, প্রকৃত রঞ্জন চাকমা, দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েনসহ সন্ত্রাসী গডফাদারদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ঐকমত্য কমিশন থেকে ড. ইফতেখারসহ সকল বিচ্ছিন্নতাবাদী মদদদাতাকে অপসারণ করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন বিওপি স্থাপন করে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। ১৯০০ সালের বৈষম্যমূলক শাসনবিধি বাতিল করে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি অবিলম্বে ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ ও গডফাদারদের গ্রেফতার করা না হয়, তবে তিন পার্বত্য জেলার শান্তিকামী মানুষদের নিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম অচল করে দেওয়া হবে।”


