ইউপি নির্বাচনে সেনাক্যাম্প চায় রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ

রাঙামাটিতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেদ্র করে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর খুন, গুম, অপহরণ, নির্বাচনী প্রচারণা কাজে বাঁধাসহ নানা অপঃতৎপরতা ঠেকাতে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ। একই সাথে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের চলমান অভিযানকে আরো জোরালো করার দাবিও তোলা হয়।

বৃহস্পতিবার () বিকেলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আসন্ন ইউপি পরিষদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তৎপরতা, প্রার্থী হত্যা, অপহরণ অপচেষ্টা প্রতিহত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করা না গেলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং সন্ত্রাসীরা আরো উৎসাহী হয়ে আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতেও একই পন্থা প্রয়োগ করবে। এতে গনতাান্ত্রিক ভোটাধিকার ব্যাহত হবে। বলে রাখা ভাল, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বিগত দুয়েক বছরে সন্ত্রাসীদের অপঃতৎপরতা অনেকটা সংকুচিত হয়েছিল। কিন্তু, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা আবারো আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও নিরীহ জনগণের উপর প্রাণনাশের হুমকি, নির্যাতন, খুন, জখম ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারই ফলস্বরুপ গত ১৬ অক্টোবর কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দলের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ের আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ইশর্^ান্বিত হয়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো আওয়ামী লীগকে সমূলে নিশ্চিন্ন করার নীলনকশা নিয়ে কাজ করছে। অথচ, পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, তাদের সাথে শান্তি চুক্তি করে তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে।

দীপংকর তালুকদার বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠা পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাস নির্মূল করার লক্ষ্যে এবং নির্বাচন সুষ্টু, সুন্দর ও সফল করতে প্রত্যেক ধাপের আগে ভোট কেন্দ্রসহ নির্বাচনী এলাকাসমূহে অস্থায়ীভাবে সেনাক্যাম্প স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, সহ সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন, হাজী মোঃ কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর, দপ্তর সম্পাদক রফিক আহম্মদ তালুকদার, সাবেক মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গতঃ চলমান ইউপি নির্বাচনের অংশ হিসেবে ২য় ও ৩য় ধাপে রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি, কাপ্তাই ও বরকল উপজেলার ইউনিয়ন সমূহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।