ইতি টানা হলো বান্দরবানের রাজপূণ্যাহ মেলার

বান্দরবানের রাজপূণ্যাহ মেলা
বান্দরবানে শেষ হয়েছে তিনদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেলের ১৩৯ তম রাজপূণ্যাহ মেলা। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসে রাজার মাঠে ।
মেলায় ১৭তম বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী জেলার ১০৯ টি মৌজার হেডম্যান কারবারীদের কাছ থেকে আদায় করেন বাৎসরিক খাজনা ।
তিনদিন ব্যাপি এ মেলায় প্রতিদিনই দেখা যায় মানুষের ভীড়। মেলার শেষ সময়ে কেনাকাটা করছেন বেশির ভাগ স্থানীয়রা। নারীরা কিনেছেন নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র। তিন দিনের এই মেলায় আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রাপালা, পুতুল নাচসহ নানা আয়োজনে চলে জমজমাট মেলা । শীত মৌসুম হওয়ায় এবারের মেলায় শীতের পোষাকের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় দেখা যায় বেশি , আর মেলাকে ঘিরে প্রতি বছরের মত এবারে ও হাজারো পর্যটক আগমন ঘটে বান্দরবানে।
বোমাং রাজ পরিবার সূত্র জানায়, বৃটিশ শাসন আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে খাজনা আদায় করা হতো। ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা পার্বত্য এলাকা শাসন করতো। ১৮৬৭ সালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের মারমা অধ্যুষিত এলাকাকে বোমাং সার্কেল, ১৮৭০ সালে রামগড় ও মাইনি উপত্যকার এলাকাকে নিয়ে মং সার্কেল গঠিত হয়।
আরো জানা যায়, বর্তমানে রাঙ্গামাটিকে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানকে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িকে মং সার্কেল হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকার বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটির রাজস্থলি ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল। দুইশত বছরের ঐতিহ্য অনুসারে বছরে একবার এই মেলা আয়োজন করা হয় বোমাং সার্কেলের পক্ষ থেকে। বর্তমানে বোমাং সার্কেলের ১৭তম রাজা হিসাবে দায়িত্বে আছেন বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।