উন্নয়ন বোর্ডের কল্যাণে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা চালুকরণে প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে : সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের কর্মদক্ষতায় আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে দীর্ঘদিন যাবত যারা কর্মরত আছেন তাদের কল্যাণে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা চালুকরণের বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬আগস্ট) রাঙ্গামাটিস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের কর্ণফুলী সম্মেলন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম এসব কথা বলেন।

উক্ত সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) নিখিল কুমার চাকমা এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোসাম্মৎ হামিদা বেগম, সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগমকে প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে মাননীয় চেয়ারম্যান এর দপ্তরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং একই সাথে উত্তড়ীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সচিব মহোদয়কে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি সচিব মহোদয়ের শুভাগমনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কর্ম প্রাণচাঞ্চল্য বয়ে আনবে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সদস্য প্রশাসন মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব) এর সঞ্চালনায় ও উপস্থাপনায় মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর বোর্ডের সার্বিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে বোর্ডের সহকারী পরিচালক সাগর পাল একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পেনশন ও শতভাগ আনুতোষিক সুবিধা চালুকরণ এবং প্রবিধানমালার আইনগত বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বক্তব্যের শুরুতে ১৫ই আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নিহত সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবনদ্দশায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩বার সফর করেছিলেন। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু অসীম দরদ ছিল। যার ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সৃষ্টি হয়।

চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। আমরা যদি জাতীয় উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারি তাহলে পার্বতাঞ্চলের মানুষও উপকৃত হবে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), সদস্য সচিব ও সদস্য প্রশাসন মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব), সচিবের একান্ত সচিব নুসরাত জাহান, বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আবদুল আজিজ, খাগড়াছড়ি ইউনিট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুল আলম, উপ পরিচালক মংছেনলাইন রাখাইন, বান্দরবান ইউনিট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত, মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালক, কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্প; রাঙ্গামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা (চ:দা:), রাঙ্গামাটি, মোঃ এয়াছিনুল হক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প; কাইংওয়াই ম্রো, গবেষণা কর্মকর্তা; মোঃ নুরুজ্জামান, বাজেট ও অডিট অফিসার (অ:দা:), কল্যানময় চাকমা, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।