উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল: পানছড়িতে বাহার সাম্রাজ্যের পতন

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে বর্তমান সভাপতি মো. বাহার মিয়ার পতন ঘটেছে।

বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত মো. বাহার মিয়াকে ৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সভাপতি(২০১২ সালে পরাজিত) আব্দুল মোমিন। ২২৬ জন কাউন্সিলের মধ্যে সভাপতি পদে ছাতা প্রতীকে আব্দুল মোমিন পেয়েছে ৮৩ ভোট, মো. বাহার মিয়া পেয়েছে ৭২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ফুটবল প্রতীকে বিজয় কুমার দেব পেয়েছে ১৩১ ভোট এবং আম প্রতীকে আবু তাহের পেয়েছে ৮৪ ভোট।
সাত বছর পর শনিবার (২৪ আগস্ট) পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক মেয়াদী কার্যকরী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বাহার মিয়ার পরাজয়ের নেপথ্যে: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার রাজনৈতিক আঙ্গণে বিতর্কিত এক নাম মো. বাহার মিয়া। ভাগ্যের অন্বেষণে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি জাতীয় বড় দুই দলের স্বাদ নিয়েছেন তিনি। এছাড়া কখনও কখনও স্বার্থের কারণে ব্যবহার করেছে আঞ্চলিক সংগঠনের শক্তি।

পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে ১৯৯৯ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। আওয়ামীলীগে যোগদান করে সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হয়। পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৪ আগস্ট পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে সভাপতি পদে পরাজিত হয়েছে।

আওয়ামীলীগের বিভিন্ন মেয়াদে দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে সংগঠনকে পরিবারতান্ত্রিক সংগঠনে রূপ দিয়েছে। নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করায় হামলা ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বাহার মিয়ার বিরুদ্ধে। এছাড়া বাঙ্গালী গুচ্ছগ্রামের খাদ্যশস্য নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে বাণিজ্য, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ কাঠ ব্যবসা ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরোধীতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন
Loading...