উৎসবের নানা রঙে পাহাড়ে চলছে বর্ষবরণের বর্ণিল আয়োজন

উৎসবের নানা রঙে পাহাড়ে চলছে বৈসুক,সাংগ্রাই,বিজু’র বর্ণিল আয়োজন। পাহাড়ের বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে এখন মুখর পার্বত্য জনপদ। আজ চাকমাদের ফুল বিজু আর ত্রিপুরাদের হারি বৈসুক। এদিন ভোরে পানিতে ফুল ভাসিয়ে দিনটি শুরু করেছে এই দুই জনগোষ্ঠীর মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি’র ধর্মীয় আচার। পাহাড় জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। নানান আয়োজনে মুখর পাহাড়ী শহর গ্রাম। পার্বত্য আদিবাসীদের মতে, বিজু মানে আনন্দ, নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় আর চেতনার নতুন প্রেরণা।
এদিকে,বৃহস্পতিবার সকালে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব। আজ ভোরে চাকমা রাজবাড়ী ঘাটে আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন খীসা ও শহরের ত্রিপুরা পল্লীখ্যাত গর্জনতলীতে কেন্দ্রীয় আ’লীগের সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে এই উৎসবের সূচনা করেন। এ সময় পাহাড়ী চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এ সময় কাপ্তাই হ্রদের তীরে ফুল ভাসান।
দীপংকর তালুকদার বলেন,সবাই যাতে মিলেমিশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে একসাথে বসবাস করতে পারি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী বিজুর শুভেচ্ছা জানান। এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, অমিত চাকমা রাজুসহ ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, সকালে পানিতে ফুল ভাসিয়ে, পুরনো বছরের দুঃখ বেদনাই যেনো ভাসিয়ে দিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনার আলো জ্বাললেন পাহাড়ের মানুষ। এদিকে, সকালে শহরের গর্জনতলি এলাকায় ত্রিপুরাদের হারি বৈসুক উপলক্ষ্যে আয়োজিত বয়স্ক স্নান,বস্ত্রদান,গড়াইয়া নৃত্য এবং পানিতে ফুল ভাসানোর কর্মসূচী পালিত হয়।
জলে ফুল ভাসানোর পর কাপ্তাই হ্রদে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা দু’টি বিভাগে বিভক্ত হয়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগে সবিল ত্রিপুরা ও তার দল প্রথম , বুলক্ষণ ত্রিপুরা ও তার দল দ্বিতীয় এবং সুমন ত্রিপুরা ও তার দল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
এছাড়া নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় নারী বিভাগে শান্তি রাণী ত্রিপুরা ও তার দল প্রথম, সখি ত্রিপুরা ও তার দল দ্বিতীয় এবং ঊর্মিলা ত্রিপুরা ও তার দল তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এসব কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা।
পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো দিনের বেদনা ভুলে নতুন দিনের প্রত্যয়ের কথা জানালেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এরপরই বৈসুক উদযাাপন কমিটির উদ্যোগে ত্রিপুরা কল্যান ফাউন্ডেশনে বৃহস্পতিবার সকালে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। আলোচনা শেষে প্রতিযোগিদের মাঝে আগত অতিথিরা পুরুষ্কার বিতরণ করেন।
শুক্রবার উৎসবের প্রধান দিন, যা মূল বিজু নামেই পরিচিত। সেদিন দলবেধে বাড়ী বাড়ী বেড়াবে ছেলেবুড়ো সবাই। পাঁচন আর দোচোয়ানির (বাংলা মদ)স্বাদে মুগ্ধ পাহাড়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে সব সীমারেখা ছাড়িয়ে। আর বেজে উঠবে পাহাড়ী গানের সুর।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।