ঋতুপর্ণা চাকমা’র অসুস্থ মায়ের পাশে বিএনপি নেতা রিজভী
দুই পায়ে কাদা, চারপাশে ছড়ার জল। বর্ষার সকালে পাহাড়ি পথ যেন আরও দুর্গম। সেই পথ পেরিয়ে রাঙামাটির কাউখালীর প্রত্যন্ত মগাছড়ি গ্রামে গেলেন এক জাতীয় নেতা—রুহুল কবির রিজভী। উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ছিল না। ছিল এক মানবিক টান—একজন মা, যিনি লড়ছেন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে, তার পাশে দাঁড়ানো।
তিনি জাতীয় নারী ফুটবল দলের উদীয়মান তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার মা—ভুজোপতি চাকমা। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই তিন দফা কেমোথেরাপি নিয়েছেন। প্রতি ২১ দিন অন্তর তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। পাহাড়ের প্রত্যন্ত এক গ্রামে বসবাস করেও তিনি চেষ্টা করছেন মেয়ের স্বপ্নের পথ আগলে রাখতে।
এই খবর পৌঁছায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশ আসে—ঋতুপর্ণার মা যেন বোঝেন, তিনি একা নন। সেই নির্দেশেই বুধবার (৯ জুলাই) সকালে ভেজা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মগাছড়ি গ্রামে পৌঁছান রুহুল কবির রিজভী।
ভুজোপতির ঘরে বসে তার শরীরের খোঁজ নেন। দেন সান্ত্বনার কথা, সাহসের স্পর্শ। তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেন শুভেচ্ছা বার্তা।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা সহায়তা। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, প্রতি মাসে কেমোথেরাপির জন্য ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন,“এই লড়াই শুধু ভুজোপতির একার নয়। তিনি একজন জাতীয় খেলোয়াড়ের মা—আমাদের গর্ব। তাকে যেন একা মনে না হয়, এই দায় আমাদের সবার।”
রিজভীর সফর শুধু এক মানবিক সাক্ষাৎ ছিল না, ছিল উন্নয়নের প্রতিচ্ছবিও। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে উন্নয়নের যত বুলি শোনা গেছে, আজকের এই পথেই তার বাস্তবতা দেখলাম। এমন কাদা, এমন দুর্গমতা—যেখানে পৌঁছাতে হলে হিমশিম খেতে হয়।”
সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনসহ আরও অনেকে।
ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের হয়ে মাঠে দৌড়ান গোলের আশায়। আর ঘরে বসে ভুজোপতি লড়ছেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। একজন মেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন, আর একজন মা সেই সাহসিকতার পেছনের নীরব প্রেরণা। ভুজোপতির চোখে জল ছিল, কিন্তু তা শুধুই কষ্টের নয়, ছিল কৃতজ্ঞতারও।



