একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে সোমবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ঈদ উৎসব শেষ না হতেই একাদশ নির্বাচন নিয়ে সরব হচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

অবশ্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী তৎপরতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন থেকেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মহড়া শুরু হয়েছে। তবে দিন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী তৎপরতাও তত বাড়ছে। ঈদে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নির্বাচনী এলাকায় থেকে জনসংযোগের কাজ সেরেছেন। ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের যেকোনো দিন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। এ লক্ষ্যে ইসি নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করছে। কারণ, একাদশ নির্বাচন ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে অর্থ্যাৎ সাংবিধানিকভাবে এই ৯০ দিনের মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন হবে। সে লক্ষ্যে এখন থেকে সাংগঠনিকভাবে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আটঘাট বেঁধে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যেই দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসবভন গণভবনে বর্ধিত সভা করে জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল। ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোও বসে নেই। জাতীয় নির্বাচনকে টার্গেট করে তারাও তৎপরতা চালাচ্ছে।

ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন এগুলো সমাধান করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সাথে সাথে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে।

নেতারা আরো জানান, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। কয়েকটি জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তৃণমূলের বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য জুলাই থেকে ঢাকার বাইরে সফর শুরু করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সারা দেশের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম তদারকিও করবেন তারা। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। কারণ, ঈদের পর বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিশেষ করে, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায় এবং সম্প্রতি প্রকাশিত দলের ভিশন ২০৩০ এর পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলটি সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা করেছে। রমজান মাসে বিভিন্ন ইফতার অনুষ্ঠানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুমকি-ধামকিও দিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য নেতারা।

গত শনিবার ভোলা সদরের তিনটি ইউনিয়নে ঈদ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি ঈদের পর আন্দোলন করার যে চিন্তাভাবনা করছে, সে সুযোগ তাদেরকে দেওয়া হবে না। তারা যদি আন্দোলনের নামে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। খালেদা জিয়া নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন হবেই। কারণ, নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা খালেদা জিয়ার নেই। ২০১৪ সালেও তারা নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এবারও ব্যর্থ হবে।

একই দিন রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কারণ, জনগণ আন্দোলন চায় না, ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে চায়।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, মূলত দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে। আর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয় ২০ মে গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে। ইতিমধ্যে বিভাগীর শহরসহ বেশ কিছু জেলায় বর্ধিত সভা করা হয়েছে। জুলাইয়ে খুলনায় বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা হবে। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। আওয়ামী লীগ সভাপতির জেলা সফর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সফরগুলোকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে গতি সঞ্চার করতে নানা ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত সব স্তরে কর্মীসভা, প্রতিনিধি সভা, উঠান বৈঠক, পথসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনে গতি সঞ্চার করা হবে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। জনগণ ও নেতা-কর্মীদের মন জয় না করতে পারলে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুয়ল কাদের যুবলীগের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় বলেন, যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন না, যারা উইনেবল ক্যান্ডিডেট নন, তারা নিশ্চয়ই মনোনয়ন পাবেন না। মনোনয়ন পাবেন উইনেবল ক্যান্ডিডেটরা। যারা উন্নয়ন করেছেন, যাদের জনপ্রিয়তা আছে, তারাই নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ কাজ শুরু করে দিয়েছে। তৃণমূলকে নির্বাচনমুখী করতে ঈদের পরেই কাজ শুরু করা হবে। আমরা তৃণমূলকে আরও বেশি সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে মাঠে নামব। পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলন ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মাঠে সতর্ক থাকব। সদস্য নবায়ণ ও সংগ্রহের কাজ এগিয়ে নিয়ে ভোটারদের জনসমর্থন আদায়ে কিছু কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের আট বছরের উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরব। ঈদের পরে আমরা পুরোপুরিভাবে সাংগঠনিক কাজে নেমে পড়ব। জেলা সফর শুরু করা হবে। এখন আমরা জাতীয় নির্বাচন টার্গেটে একযোগে কাজ শুরু করব। খবর-রাইজিংবিডি ডটকম এর।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।