এবার লামায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২৪ পরিবার

দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহের পর এবার বান্দরবানের লামা উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২৪ হত দরিদ্র পরিবার পাচ্ছেন বিনামূল্যে বিশেষ ডিজাইনের সেমি পাকা ঘর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচন কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সরকার প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। প্রতি ঘরে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩৮ টাকা হারে এতে মোট ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৭১২ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের মতো যার জমি আছে, ঘর নেই এমন গরিব-অসহায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় লামা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ২৪টি বিশেষ ডিজাইনের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রতিটি ঘরে থাকছে ৩টি কক্ষ ও বারান্দা সহ রান্না ঘর। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক সুপারিশকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী গৃহ নির্মাণের স্থান নির্বাচন ও জমি পরিদর্শনের কাজ শেষে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২০টি ঘরের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বর্ষা মৌসুমের কারণে বাকি ৪টি ঘরের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। কাজটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

ঘরপ্রাপ্তরা হলেন- গজালিয়া ইউনিয়নের আকিরাম পাড়ার বিশাইরুং ত্রিপুরা, হেডম্যান পাড়ার উম্রাচিং মার্মা, গাইন্ধা পাড়ার এসাইনু মার্মা, চিন্তাবর পাড়ার তংইয়া মুরুং, লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা পাড়ার হ্লাঅং প্রু মার্মা, মাএনু মার্মা, উম্রাচিং মার্মা, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড় পাড়ার উমে মার্মানী, ক্যচিং পাড়ার ইয়াসানু মার্মা, রাজা পাড়ার চ্যংপাত ম্রো, কাঠালছড়া ত্রিপুরা পাড়ার চন্ডি চরণ ত্রিপুরা, আজিজনগর ইউনিয়নের তেলুনিয়া পাড়ার মমংশে মার্মা, চিউনী কাঠতলি পাড়ার গুনা চরণ ত্রিপুরা, সরই ইউনিয়নের টংগঝিরি পাড়ার চন্দ্রমান ত্রিপুরা, ক্যয়াজুপাড়ার চন্দ্রজন ত্রিপুরা, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী নয়াপাড়ার আছিংমে মার্মা, বৈদ্য ভিটা পাড়ার আলুংমে মার্মা, চামং উ মার্মা, ফাইতং ইউনিয়নের রোয়াজাপাড়ার উশৈইমং মার্মা, মংচিন্তা মেম্বার পাড়ার মাছিং মার্মা, হেডম্যান পাড়ার মং নুচিং মার্মা, পৌরসভা এলাকার শীলেরতুয়া পাড়ার মং চাচিং মার্মা ও বড় নুনারবিল পাড়ার থোয়াই চাহ্লা মার্মা।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, দু একটির কাজ শেষ হয়েছে আবার কিছু ঘরের লিংটার পর্যন্ত করা হয়েছে এখন টিন লাগানো বাকী রয়েছে।

এ সময় রুপসীপাড়া ইউনিয়নের আছিংমে মার্মা, সরই ইউনিয়নের টংগঝিরি পাড়ার চন্দ্রমান ত্রিপুরা জানান, অভাবের সংসারে কখনো নতুন করে সেমি পাকা ঘর তৈরী করার স্বপ্ন কল্পনাতেও আসেনি তাদের। যে স্বপ্ন কখনো কল্পনাতে আসেনি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয়ের বিশেষ বরাদ্দ থেকে পাওয়া তাদের সেমিপাকা একটি ঘর হচ্ছে। আগামী দু এক মাসের মধ্যেই সেই ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন তারা। এ জন্য প্রধান মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন তারা।

রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা ও গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা এক সূরে বলেন, সরকারের এমন মহতি উদ্যোগের কারণে খুশি ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী। তবে আরো যারা হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের কথা বিবেচনা করে আরো বরাদ্দ প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লামা ্উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিশেষ ডিজাইনের ২০টি ঘরের কাজ ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বর্ষা মৌসুমের কারণে বাকি ৪টি ঘরের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যে ঝিরি ও নদীর পানি কমে গেলে কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি রেজা রশীদ বলেন, যেসব নৃগোষ্ঠিরা ঘর পাচ্ছেন তারা একেবারেই হতদরিদ্র। তারা এক সময় বেড়ার ঘরে জরাজীর্ণ জীবনযাপন করতেন। আশা করি আগামী দু এক মাসের মধ্যেই উপকার ভোগীরা প্রধান মন্ত্রীর দেয়া ঘরে উঠতে পারবেন। ঘর পাওয়ার পর অনেকটাই ভালোভাবে থাকতে পারবেন তারা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।