এমএনপি সেবা চালু, খরচ হবে ১৫৮ টাকা

সেলফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে গ্রাহককে অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ দিতে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবার পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে এ সেবা চালু হলেও গ্রাহকরা সেবাটি পেতে শুরু করেছেন সকাল থেকে। গতকাল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমএনপি সেবা চালুর ঘোষণা দেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একবার এমএনপি সুবিধা নেয়ার পর আবার অপারেটর পরিবর্তন করতে গ্রাহককে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এমএনপি সুবিধা নিতে গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা নিতে পারবে অপারেটররা। সেবা নেয়ার জন্য গ্রাহককে নতুন সিম নিতে হবে। এজন্য সিম নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলে সেবাটি নিতে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ মোট ১৫৮ টাকা ব্যয় করতে হবে গ্রাহককে। প্রথম দিন দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১৭ জন গ্রাহক তাদের অপারেটর পরিবর্তন করেছেন।

জহুরুল হক বলেন, পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক সেবা বলা হলেও আসলে গ্রাহকরা এখন থেকেই পুরোদমে এমএনপি সেবা পাবেন। এমএনপি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মুনাফা করলে সেবাটি নিতে এখন গ্রাহককে যে ফি দিতে হচ্ছে, তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে। নতুন এ সেবা চালুর ফলে অপারেটররা তাদের সেবার মান উন্নত করতে আরো বেশি সচেষ্ট হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

এমএনপি সেবার লাইসেন্সধারী কোম্পানি ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন জানান, ১৫ কোটি গ্রাহকের জন্য এ সেবা শুরু করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। গ্রাহকরা আজ (সোমবার) থেকেই সেবাটি পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত অপারেটর পরিবর্তনের জন্য প্রায় ২০ জন গ্রাহক আবেদন করেছেন। প্রিপেইড সিমের ক্ষেত্রে নম্বর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া একদিনে সম্পন্নের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিটিআরসির পরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) লে. কর্নেল আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালান্স দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষণের নিয়ম করা হচ্ছে। অপারেটর পরিবর্তনের দুই বছরের মধ্যে আগের অপারেটরে ফিরে গেলে তা ফেরত পাবেন গ্রাহক। তবে এ সময়ের পর অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালান্স সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এর প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। তবে ডাটার ক্ষেত্রে অব্যবহূত অংশ ফেরত পাওয়া যাবে না। ব্যালান্স শেষ করেই অপারেটর বদলের সুপারিশ করেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

এক প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসির মহাপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল জানান, অপারেটর পরিবর্তনের সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সব তথ্য যাচাই করা হবে। ফলে বিল বকেয়া রেখে নম্বর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বকেয়া বিল পরিশোধ করেই অন্য অপারেটরে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি কমিশনার রেজাউল কাদের, কমিশনার আমিনুল হাসানসহ বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।