কখন চালু হবে লামার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন ?

লামায় নির্মিত সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন
নির্মাণের চার বছর পরও চালু হয়নি বান্দরবানের লামা উপজেলার ২নং লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি‘র প্রচেষ্টায় ভবনটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দীর্ঘ সময়েও ভবনটি চালু না হওয়ার কারনে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কখন চালু হবে লামার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন।
নির্মাণ কাজ শেষ শেষে ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অথচ হস্তান্তরের দীর্ঘ দিনেও চালু না হওয়ার কারণে বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি। আবার এ সুযোগককে কাজে লাগিয়ে রাতের বেলায় ভবনটিতে চলে বখাটেদের আড্ডা। ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি চালুর দাবী জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন ইউনিয়নের নাম লামা ইউনিয়ন। এর এলাকাসমূহ খুবই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে পৌর শহরে অবস্থিত দুটি কক্ষে অস্থায়ী ভাবে চলে পরিষদের বিভাগীয় কার্যক্রম। তাই স্থানীয় জনসাধারণকে মাতামুহুরী নদীসহ প্রায় ৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরকারী সেবা নিতে যেতে হয় পৌর শহরে। শুকনো মৌসুমে কোন মতে নৌকায় পার হতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে নদী পাড়ি দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হন স্থানীয় জনসাধারণ। এ ভোগান্তি লাঘবে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি‘র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় ৫০ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ৮৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লামা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মিত ভবনে এলজিইডি, শিক্ষা, বিআরডিবি, আনসার ভিডিপি, জনস্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগের কার্যক্রমের জন্য নবনির্মিত ভবনে নির্ধারিত কক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিবের জন্য অফিস কক্ষসহ রেস্ট হাউস এবং হলরুমও রয়েছে এটিতে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটির বারান্দায় জ্বালানী কাঠের স্তুপ। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় দরজায় লাগানো তালাগুলোতে মরিচা পড়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ভবনের রংও। দেখলে মনে হবে যেন, এটি অনেক দিনের পুরানা একটি পরিত্যক্ত ভবন। অথচ ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগও রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে রয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আক্তার কামাল ও স্থানীয় মালেক, জসিম, আবদুর রহিমসহ অনেকে বলেন, দীর্ঘ চার বছরেও চালু না হওয়ায় ভবনটি রাতের বেলায় বখাটেদের আস্তানায় পরিণত হয়। আর ভবন থাকা সত্বেও উপজেলা সদরের পৌরসভায় অবস্থিত লামা ইউপির অস্থায়ী অফিসে গিয়ে জনসাধারণকে সেবা গ্রহণ করতে হয়। তারা আরও বলেন, এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি নির্মাণের ব্যবস্থা করায় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জনস্বার্থে পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি চালু করা হলে জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লামা উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের পর পর চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নবনির্মিত ভবনে ইউপি’র প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এখন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ওপর।
এ বিষয়ে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানিয়েছেন, যোগাযোগের অসুবিধার কারণে নির্মিত ভবনে বিভাগীয় কার্যক্রম করা যাচ্ছেনা। মাতামুহুরী নদীর রাজবাড়ি পয়েন্টে নির্মাণাধীন ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলে পরিষদ চাঙ্গা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা সাংবাকিদকদের জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্মিত ভবনে বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার কোনো সুযোগ নাই।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।