করোনার ভয়ে সেই সুমন চাকমার দাহক্রিয়ায় যায়নি কোন ভান্তে !

খাগড়াছড়ির সন্তান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন চাকমা। চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে গেলেও করোনা ভাইরাসের ভয়ে চিকিৎসা দেয়নি কোনো হাসপাতাল, ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুসফুস জনিত রোগে গত সোমবার বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সুমন। আর সেই সুমন চাকমা’র নিজের জেলায় আজ মঙ্গলবার (৭মার্চ) দাহক্রিয়ায় কোন ভান্তে যায়নি করোনার ভয়ে, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দাতকুপা এলাকার আগলাশিং পাড়ার সুপেন চাকমার ছেলে সুমন। আক্ষেপ থেকে গত ২৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন চাকমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন, আমার করোনা হয়নি, অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্যেই আমার মারা যেতে হবে। অবশেষে সুমন চাকমা’র আক্ষেপই সত্য হলো, বিনা চিকিৎসায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুসফুসজনিত রোগে মারা যায় সে।

আরো জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে গেলেও করোনা ভাইরাসের ভয়ে চিকিৎসা দেয়নি কোনো হাসপাতাল। ফলে বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হয় তার। সুমন চাকমা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের ২২তম ব্যাচের ছাত্র সুমন জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। এবার তার দাহ ক্রিয়ায়ও করোনার ভয়ে আসেনি ধর্মীয় কাজ সম্পাদন করার জন্য কোন ভান্তে। পরে স্বজনরাই তার দাহ শেষ করেন। আর এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত মানুষ সরব।

গত ২৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া সুমন চাকমা’র স্ট্যাটাস

খাগড়াছড়ির বাসিন্দা পারিশ চাকমা নামে একজন লিখেন, করোনার ভয়ে সুমনের দাহক্রিয়ায় কোন ভান্তে পাওয়া যায়নি। ইটছড়ি মৈত্রীপুর কুটির,পূর্বগামারি ঢালা বনবিহার, উল্টাছড়ি মধ্যপাড়া বিহার ও ইটছড়ি মূখ বৌদ্ধ বিহারে দাহক্রিয়ায় ভান্তের জন্য যাওয়া হয়। ইটছড়ি মৈত্রীপুর কুটিরের অধ্যক্ষ বিমল ভান্তে ও উল্টাছড়ি মধ্যপাড়া বিহারের অধ্যক্ষ চন্দ্রপাল ভান্তে সরাসরি জানিয়ে দেন যে বিহার কমিটি থেকে নিষেধ করা আছে করোনার কারণে যাতে দাহক্রিয়াতে না যায়। পূর্বগামারি ঢালা বনবিহারের শীলভদ্র ভান্তে, যিনি সুমনের দাদু সম্পর্কের আত্মীয় হোন। তিনি বলেন, কোন ভান্তে পাওয়া না গেলে তিনি নিজে একা হলেও উপস্থিত থাকবে । কিন্তু দেখা গেল তিনিও আসতে পারেননি বা আসেননি। জানা যায়, তাকে নাকি হুমকি দেয়া হয় সুমনের দাহক্রিয়ায় গেলে সংঘ থেকে বহিস্কার করা হবে। সেজন্য তিনি যেতে পারেনি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।