করোনার হটস্পট হতে চলেছে বান্দরবান শহর !

এক লুম্বিনী গার্মেন্টসেই সর্বনাশ

বান্দরবান জেলার ৫টি উপজেলায় করোনা রোগী অনেক আগেই পাওয়া গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও সেচ্ছাসেবকদের সচেতনায় করোনায় নিরাপদ ছিলো বান্দরবান শহর। কিন্তু করোনার মধ্যে গার্মেন্টস চালু রেখে বাইরে থেকে শ্রমিকদের বান্দরবান শহরে অবাধ যাতায়তের সুযোগ করে দিয়ে যেন বিপদ ডেকে এনেছে জেলাবাসীর। কক্সবাজার এর ঈদগড় থেকে আসা প্রতিষ্ঠানটির এক শ্রমিকের করোনা পজেটিভ হওয়ার কারনে প্রতিষ্ঠানটির ৫৪১ জন শ্রমিক শুধু নয়, খোদ শহরের বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের সময় কাটছে চরম আতংকে। আর এনিয়ে এস বাসু দাশ এর বিশেষ প্রতিবেদন।

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়ার মাঝামাঝি সময় থেকে গত ২৪ই মে পর্যন্ত বান্দরবান জেলা সদর ও শহরের বাহিরের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, থানচি ও আলীকদম ৪টি উপজেলায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ১৭জন। কিন্তু প্রশাসনের কঠোরতার কারনে জেলা শহর এই সংক্রামণের বাইরে থাকলেও জেলা শহরের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত লুম্বিনী গার্মেন্টেস এই কর্মীর করোনা পজেটিভ এর কল্যানে করোনা হট স্পট হতে পারে বান্দরবান শহর।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.শামীম হোসেন বলেন, করোনা সংক্রামন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য লুম্বিনীর গার্মেন্টসে কর্মরত ৫৪১ জন শ্রমিকে হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্দ্যেগ।

এদিকে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হলেও প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকরা বাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে,ফলে স্থানীয়দের অনেকে তাদের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর দাবী করেন।

জেলা শহরের বনরুপা পাড়ার বাসিন্দা সঙ্গীতা দেবী বলেন, লুম্বিনী গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেনা, ঘরের বাইরে বের হচ্ছে। জেলা সদরে অবস্থানরত লুম্বিনীর কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা উচিত।

আরো জানা গেছে, এই রোগে জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৫ টিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১৯ জনে, সুস্থ হয়েছে ৯ জন এবং আইসোলেশনে আছে ৯ জন এবং সদর হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ জন।

গত সোমবার (২৫ মে) সর্বশেষ করোনা প্রতিবেদনে করোনা পজেটিভ আসে বান্দরবান সদরের মেঘলায় অবস্থিত লুম্বিনী গার্মেন্টস কর্মী আনন্দ এর, যার বয়স ৩৮ বছর। তার সাথে আরো একজন মেঘলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা রুম মেট থাকলেও তিনি অবাদে কর্মস্থলে যান। আনন্দের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগড়ে। গত ১০ মে আনন্দ লুম্বিনীতে যোগ দেয়।

আরো জানা গেছে, তার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের পর চিকিৎসকরা তাকে লুম্বিনীতে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করলেও সে তা অমান্য করে লুম্বিনী, তালুকদারপাড়া ও মেঘলাস্থ বিভিন্ন দোকানে অবাধে যাতায়ত করে। ফলে আজ মঙ্গলবার তালুকদার পাড়া ও মেঘলায় অবস্থিত দোকানগুলো লকডাউন করা হয়।

অপর আক্রান্তের মধ্যে আছে স্বর্ণ মন্দির এলাকার ধনঞ্জয় দেবনাথ, তার বয়স ৩৮ বছর। তার বাড়ী চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। সে কুহালং ইউনিয়ন রুট দিয়ে ব্যবসার জন্য বান্দরবানে প্রবেশ করে। সে করোনা পজেটিভ হওয়ার খবর পেয়ে স্বর্ণ মন্দির এলাকা থেকে গত সোমবার বিকালে পালিয়ে যায়। আর এই দুইজনের মাধ্যমে জেলা সদরে এই প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা:অং সুই প্রু মারমা পাহাড়বার্তাকে বলেন, লুম্বিনী গার্মেন্টস কর্মী আনন্দকে সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে নিয়ে আসা হলেও স্বর্ণ মন্দির এলাকার ধনঞ্জয় দেবনাথ পালিয়ে যাবার কারনে তার বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, করোনা আক্রান্ত হয়েছে মোট ১৯ জন, এর মধ্যে ৯ জন সুস্থ হয়ে নিজেদের বাড়ী ফিরে গেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলার বাইরে থেকে মানুষ প্রবেশ করার কারনে করোনা সংক্রামনের ঝুঁকি বেড়েছে জেলা সদরে।

জেলা শহরের মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা রিমন বড়ুয়া বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে আছে লুম্বিনী গার্মেন্টসের কর্মী, তাই আতংকিত বোধ করছি।

জেলার প্রধান ও একমাত্র গার্মেন্টস লুম্বিনী’তে করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়ার কারনে জেলা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক মনে করছে, এই আক্রান্ত কর্মীর কারনে প্রতিষ্ঠানটির শত শত শ্রমিক আক্রান্ত হতে পারে। যার ফলে করোনার সংক্রামনের অতি ঝুঁকিতে পড়বে বান্দরবান শহর।

পাহাড়বার্তার পাঠক আবু তাহের মাহমুদ বলেন, “রোগকে ঘৃণা করো, রোগীকে নই”। গার্মেন্টস মালিক যখন খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন তারা অসহায় ছিলো। আসুন সবাই মিলে তাদের পাশে থাকি এবং সবাই নিরাপদ থাকি।

প্রসঙ্গত,করোনার কারনে সারাদেশে গার্মেন্টস বন্ধ থাকলেও বান্দরবানের লুম্বিনী গার্মেন্টস বন্ধ না রেখে তাদের পোশাক উৎপাদন অব্যাহত রাখে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা:অং সুই প্রু মারমা পাহাড়বার্তাকে আরো বলেন, আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট ১৯ জন।

আরও পড়ুন
Loading...