করোনা আর বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবান

একদিকে করোনার বিস্তার, অন্যদিকে টানা চারদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবানের মানুষ। গত দুইদিন জেলার চার উপজেলা প্লাবিত হলেও আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোর রাত থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় উজানের পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে ২০ হাজার মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার পরিবারের মানুষকে। জেলার সাংগু-মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় আলিকদম থানচি উপজেলা সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পুরো জেলায় ১৪০টি আশ্রয় কেন্দ্রে খোলা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরের ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে ইতোমধ্যে আড়াই হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। আত্নীয় বাড়িতে আশ্রয় নিছে রয়েছে ৮৩৫টি পরিবার। এছাড়া সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলা ছাড়া ৪শ পরিবারবার আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য পাহাড়বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি।

তিনি বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র লোকদের জন্য দুপুরের খাবার ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে, রাতের খাবার তৈরী করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলছে।

পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিতে থাকা বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছর বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং পাহাড় ধসের শঙ্কা বাড়ছে।

অন্যদিকে বান্দরবানে বর্তমানে করোনা রোগী ৪০৭ জন, অর্ধেকের বেশি রোগী জেলা সদরের। বন্যা প্লাবিত হওয়ার কারনে বান্দরবানে মানুষের চলাফেরা বেড়েছে, ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে জেলায় করোনা রোগী আছে সর্বমোট ৪০৭ জন। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র জেলা সদরে ২৭২ জন করোনায় আক্রান্ত। ফলে সদরে অর্ধেকের বেশি করোনায় আক্রান্ত রোগী থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন পজিটিভ ৩২ জন। এর মধ্যে জেলা সদরে ২৬ জন, রুমায় ৪জন, থানচিতে ১জন ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ১জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৫ জন (সদরে ১জন, রুমায় ৩ জন ও থানচিতে ১ জন)। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ৩৭.৬৫%।

গত বুধবার তথ্য প্রাপ্ত দেখা যায়, করোনা মৃতদের মধ্য একজন পুরুষ ও নারী। তাদের দুজনের বয়স ৫৭ বছর। এ নিয়ে করোনার শুরু থেকে বান্দরবান জেলায় ৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদিকে জেলা সদরের হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ২৩ জনকে চিকিসা দেওয়া হচ্ছে, এর মধ্য তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডাঃ অং সুই প্রু মারমা আরো বলেন, দিন দিন করোনা ভাইরাস তার লক্ষন পাল্টে নতুন নতুন লক্ষণ নিয়ে মানুষের শরীরে অবস্থান করছে, তাই আমাদের সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।