করোনা : পার্বত্য জেলার মধ্যে ভাগ্যবান রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার ৪৭ দিনের মাথায় এসে প্রাণ সংহারি এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৫৮টি জেলায়। তবে আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশের তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে ৪ জন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলেও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। তাই পাহাড়ের এই দুই জেলাকে ভাগ্যবান হিসেবেই মনে করছেন সবাই। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বাদে সব জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছে।

যথাযথভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলায় এই দুই জেলায় সংক্রমণ এখনো ছড়ায়নি বলে মনে করেন জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে অন্য এলাকা থেকে আসা এবং দুই শতাধিক বিদেশ ফেরতদের খুবই সতর্কতার সাথে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার কারনে করোনা মুক্ত রাঙামাটি।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রশাসনের কঠোরতার কারনে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলায় করোনা সংক্রামন হয়নি।

এছাড়াও করোনার লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সরাসরি দাফন না করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে যথার্থ পদক্ষেপ নেওয়ার কারনে এখনো করোনা মুক্ত রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। তবে দুই জেলার উপজেলাগুলোতে করোনা উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন মারা গেলেও তাদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা মেলেনি।

রাঙামা‌টির সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা বলেন, আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় রাঙামাটি এখনো করোনা মুক্ত আছে, আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।

প্রসঙ্গত,গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানা যায়। এরপর ১৮ মার্চ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ এবং ২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো সীমিত আকারে কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে বলেও জানা যায়। করোনা পরীক্ষার ল্যাব জেলায় না থাকায় এই জেলাগুলো আক্রান্ত হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার রাঙামাটিতে একটি সভায় দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন,রাঙামাটিতে করোনা মোকাবেলায় সবাই এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সবার যথাযথ প্রচেষ্টায় আমরা এখনো নিরাপদ আছি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।