করোনা মোকাবেলায় অনুকরণীয় বান্দরবান

করোনা মোকাবেলায় প্রথম থেকে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের কারণে পর্যটন জেলা বান্দরবান এখনো নিরাপদ আছে। বর্তমানে জেলায় প্রবাসীসহ একশত জনের কোয়ারেন্টাইন চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

করোনা পজিটিভ রোগীশূণ্য থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী, আর্মি প্রশাসন, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিস, ফায়ার সার্ভিস, সাত উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন সরকারী দপ্তর-অফিস, তেত্রিশ ইউনিয়ন পরিষদ, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ, ব্যক্তি উদ্যোগসহ বিভিন্ন মুখি তৎপরতার কারণে অদ্যাবধি কোন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি প্রথম থেকেই স্বশরীরে বান্দরবান থেকে তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করছেন এবং সরকার নির্দেশিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ বিতরণ করছেন । প্রথমেই তিনি বান্দরবান এসে ব্যস্ততম কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কের সন্নিহিত তিন উপজেলা যথাক্রমে লামা, নাইক্ষংছড়ি ও আলীকদম লক ডাউনের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি ম্রো সম্প্রদায়ের ৫০টি পাড়ায় পাড়াবাসীর স্ব-উদ্যোগে পাড়া লক ডাউন চলছে; অবশ্য এই লক ডাউন তাদের দীর্ঘদিনের চিরায়ত পদ্ধতি যা ফি-বছর নানা সামাজিক-ধর্মীয় রীতি মেনে করা হয়। আগে সাধারণত চব্বিশ ঘন্টার জন্য করা হলেও এখন পাড়াগুলোতে অনির্দিষ্টকালের লক ডাউন চলছে।

পর্যাপ্ত খাবারের ঘাটতি ঠেকাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য বরাদ্ধের হেতু বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে। সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় এবং কর্মছুটিতে থাকা পরিবারের পাশে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক কল সিস্টেমে যেকারো দোরগোড়ায় বাজার পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দুইটি পৌরসভা, সাতটি উপজেলা এবং ৩৩ ইউনিয়নে একযোগে প্রেরিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এখনো চলমান আছে। কোন প্রকার জোরাজুরি কিংবা হেনস্থা ব্যতিরেখে করোনার কড়াল গ্রাস এবং ব্যাপকতা সম্পর্কে জনগণকে বুঝিয়ে বাড়িতে থাকতে উদ্বুদ্ধকরণে সামরিক-বেসামরিক পদক্ষেপও যথেষ্ট প্রশংসনীয়।

লোকসমাগমের আধিক্য ঠেকাতে সাপ্তাহিক বাজার বন্ধ রেখে সীমিত, নিয়মিত বাজার চালু রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সঙ্গনিরোধ মেনে চলছে, ব্যক্তি উদ্যোগে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। পাহাড়ি-বাঙ্গালি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সংগঠন, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, বিচ্ছিন্ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় চার পাঁচশত স্বেচ্ছাসেবক জীবাণুনাশক স্প্রে করা, ত্রাণ সংগ্রহ করা, প্যাকেজিং, উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ, সামগ্রী বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে জোর পদক্ষেপে কাজ করছে। পৌর এলাকাসমূহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে; পাশাপাশি আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিতকরণ করা হয়েছে। অতীব প্রয়োজন ব্যতিত চলাচল নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সকল এম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে; ক্লিনিকগুলোও চালু আছে।

নেটিজেনরাও ঘরে বসে নেই; তারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সচেতন করবার চেষ্টা করছে; করোনার ব্যাপকতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরছে। জেলাব্যাপি সুনসান নিরবতা কাজ করছে। বান্দরবানের মানুষের বিশ্বাস দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় পূর্বেই তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে অনাহূত পরিস্থিতি সামলে বান্দরবান জেলা উতরে যাবে। এ এক অন্য বান্দরবান; সম্প্রীতির বান্দরবান।

⬛ লেখক:- শাহ্ সাইফুল সনেট,বান্দরবান।

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। পাহাড়বার্তার -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য পাহাড়বার্তা কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।