কর্মীদের জেতালেন শেখ হাসিনা

বেশ কয়েকবছর ধরেই তিনি বলে আসছেন, অবসর চান। গত সম্মেলনেও তিনি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব থেকে অবসর চেয়ে নতুন নেতৃত্ব উঠিয়ে আনার কথা বলেছিলেন।

এবারও বললেন। কিন্তু নেতাকর্মীরা তাদের ভালোবাসা আর আস্থার জায়গায় বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ। হলোও তাই। নেতাকর্মীদের আবেগকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারলেন না তিনি। তাই তো আবারো নৌকার হাল ধরে কর্মীদের ভালোবাসাকে জেতালেন শেখ হাসিনা।

নেতৃত্ব ঠিক করতে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বসেছিলেন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলররা।

ঘড়ির কাঁটা তখন দেড়টা ছুঁই ছুঁই। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চান দলের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করার প্রক্রিয়া। বিরতির পর শুরু করলে ভালো হয়, না কি এখনই শুরু হবে? কিন্তু উপস্থিত কাউন্সিলরা বিরতির আগেই নেতৃত্ব ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেন। এসময় শেখ হাসিনা অবসর নিতে চান এমন ইঙ্গিত দিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে তা প্রত্যাখ্যান করে আবারো সভাপতি হিসেবে তাকে দেখতে চান বলে জানিয়ে দেন। তিনি বলেন ‘আপনারা একটু শান্ত হোন। আমি তো এখনো কিছু বলি নাই।’

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতে নির্বাচন কমিশনের ওপর দায়িত্ব দেন। নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন দলের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অপর দুই সদস্য হলেন- উপদেষ্টা সদস্য ড. সাইদুর রহমান ও ড. মশিউর রহমান।

সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন দ‌লের সভাপ‌তিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল ম‌তিন খসরু, সমর্থন জানান সভাপ‌তিমণ্ডলীর সদস্য পীযুষ কা‌ন্তি ভট্টাচার্য। সভাপ‌তি হি‌সে‌বে আর কো‌নো নাম না আসায় তি‌নি বিনা প্র‌তিদ্ব‌ন্দ্বিতায় নেতা নির্বা‌চিত হন।

নেতা নির্বাচিত হয়ে কর্মীদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগে আছি, এখানেই থাকব। এটাই আমার পরিবার। ‘৭৫ সালে আমি মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়ে বিশাল এক পরিবার পেয়েছি। সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিবার।’

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছি। ৩৯ বছর চলছে। আমি কোনো পদে থাকি বা না থাকি আওয়ামী লীগে আছি। এখানেই থাকব। এটাই আমার পরিবার। আমার আপনজন যাদের রেখে গিয়েছিলাম, তাদের কাউকে পাইনি। তবে আমি পেয়েছিলাম বিশাল একটা পরিবার, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

‘নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার চলার পথের শক্তি। আমার অর্থ, সম্পদ নেই। নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার একমাত্র শক্তি। সেজন্য চেষ্টা করেছি সংগঠনকে গড়ে তুলতে। তবে সামনে আপনাদের ভাবতে হবে। আমার ৭৩ বছর বয়স হয়েছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। নতুন নেতা নিয়ে ভাবতে হবে। দলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে গুরুদায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন, তা যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি তার জন্য সবার দোয়া চাই, সমর্থন চাই। এই কাউন্সিল থেকেই সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ মনোনয়ন বোর্ড কাউন্সিল গঠন করে নিতে চাই।’

১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন। ৩৮ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। এবার রেকর্ড নবম বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব পেলেন তিনি। সূত্র-রাইজিংবিডি ডটকম।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।