কাপ্তাইয়ের পাংখোয়া শিল্পী গোষ্ঠী : সংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে নেই

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন এর সবচেয়ে দূর্গম হরিনছড়া ৩নং ওয়ার্ডের পাংখোয়া পাড়া। কাপ্তাই উপজেলা সদর হতে প্রথমে সড়ক পথে কাপ্তাই জেটিঘাট গিয়ে এরপর ঘন্টাখানেক কাপ্তাই লেক ধরে ইঞ্জিন চালিত বোট দিয়ে এরপর ২০ মিনিট পায়ে হেঁটে ঐ এলাকায় পৌঁছাতে হয়। আধুনিক সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত কাপ্তাই উপজেলা সদর হতে অনেক দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করলেও তাঁরাও পিছিয়ে নেই সংস্কৃতি চর্চায়। মাত্র ১৮ টি পাংখোয়া পরিবারের বসবাস এই হরিনছড়া পাংখোয়া পাড়া এলাকায়।

এই পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর রয়েছে বৈচিত্র্যময় নৃত্য এবং গান। বিশেষ করে ছন্দে আনন্দে নৃত্য গীতে তাদের বাঁশ নৃত্য পরিবেশনা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। দুই পাশে ৪ জন করে সর্বমোট ৮ জন নৃত্য শিল্পী (কখনো ৩ জন করে ৬ জন হয়) একই তালে বাঁশকে নাড়াবে। আর সেই বাঁশের ছন্দে ২ জন বা ৪ জন নৃত্য শিল্পী বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে নৃত্য পরিবেশন করে। যদি কোন কারনে একটু ছন্দের পতন হয়, তাহলে নির্ঘাত বিপদ। দুই বাঁশের মাঝখানে পড়ে পায়ে আঘাত পেতে পারে যে কেউ। তবে তাদের এমনটি হয় নাই বলে জানালেন তাদের দলের সভাপতি লালরিন পাংখোয়া। তিনি আরোও জানান, আমাদের আরোও বেশ কয়েকটি নৃত্য আছে। তৎমধ্যে “কান দামলাই” নৃত্য। যেটা আমরা “পার লাম” বলি। পাংখোয়া ভাষায় পার শব্দের অর্থ ফুল আর লাম শব্দের অর্থ নাচ। ফুল দিয়ে এই নৃত্য পরিবেশনা করি আমরা। একজন ছেলে আর একজন মেয়ে জোড়ায় জোড়ায় ৩/৪ জোড়া করে নৃত্য পরিবেশনা করে।

হরিনছড়া পাংখোয়া পাড়া চার্চ এর সভাপতি আরদৌ লিয়ানা পাংখোয়া জানান, আমাদের এই পাড়ায় অনেক প্রতিভাবান শিল্পী আছে। তাঁরা পাড়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। যদি বড় পরিসরে সুযোগ পায়, তাহলে তাঁদের প্রতিভাকে আরোও বিকশিত হতে পারবেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর চন্দ্রঘোনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এর আয়োজনে বড় দিনের একটি জমকালো অনুষ্ঠানে চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালের স্টাফ ক্লাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাঁরা বাঁশ নৃত্য এবং পাংখো গান পরিবেশন করে দর্শকের অনাবিল আনন্দ দেন।

এই দলের সদস্য, লালরিন পাংখোয়া, লালরোয়াত পাংখোয়া, লালরিনসান পাংখোয়া, লালজেকিয়া পাংখোয়া, ডাভিদ পাংখোয়া, লালমি পাংখোয়া, জৌরামথাং পাংখোয়া, থাতজোয়াল পাংখোয়া, শালেম পাংখোয়া, রেবেকি পাংখোয়া, মালসমপার পাংখোয়া,জাইথানপার পাংখোয়া এবং সাপনুনপার পাংখোয়া সেই দিন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং এবং ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এর সাধারণ সম্পাদক বিজয় মারমা জানান, প্রাক বড়দিন উপলক্ষে গত ১৯ ডিসেম্বর আমরা হরিনছড়া পাংখোয়া পাড়ায় যায়। সেইদিন তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি উপভোগ করে আমরা মুগ্ধ হই এবং তাদের আমরা চন্দ্রঘোনা বড়দিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাই।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মুনতাসির জাহান জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর চন্দ্রঘোনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এর আয়োজনে হাসপাতালের স্টাফ ক্লাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই হরিনছড়া পাংখোয়া পাড়া শিল্পীদের বাঁশ নৃত্য এবং গান শুনে আমি অভিভূত হয়েছি। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি কাপ্তাইয়ের পক্ষ হতে তাদের সংস্কৃতি বিকাশে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবো।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।