কাপ্তাইয়ে মৌসুমী ফলে বাজার সয়লাব, বিক্রি নিয়ে হতাশ বিক্রেতারা

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ফল বিক্রেতা মো: দুলাল। টানা ১৫ বছর ধরে উপজেলায় ফলের ব্যবসা করেন তিনি। বিশেষ করে মধুমাসে তার দম ফেলার সময় থাকেনা। আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস এইসব মৌসুমী ফল কেনার জন্য ক্রেতার উপচে পড়া ভীড় থাকে তার দোকানে। প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকার ফল বিক্রি হতো তার। প্রচুর পর্যটক তার ফল নিয়ে যেতো বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্ত এইবার তার মুখে নেই হাসি। করোনা ভাইরাসের কারনে কমে গেছে বিক্রি। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় পর্যটকের আনাগোনাও কম।

শুক্রবার (৪ জুন) বিকেলে কাপ্তাই বড়ইছড়িতে মৌসুমী ফল বিক্রেতা মো: দুলাল সহ কথা হয় মো: মাসুদ, বেলালসহ অনেকের সাথে। তারা জানালেন, এই বছর রুপালী, আম্রপালী, রাঙোয়া এবং মল্লিকা জাতের আমের ফলন হয়েছে কাপ্তাইয়ে । তবে গত বছরের চেয়ে এইবছর ফলন কম হয়েছে। এইছাড়া আনারস, কাঠাল, লিচুসহ নানা মৌসুমী ফলে ভরপুর হয়ে আছে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন হাটবাজার। তবে গতবছরে তুলনায় দাম এই বছর একটু বেশী হওয়ায় তারা লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন।

তারা জানান,গতবছর যেখানে প্রতি কেজি আম ২০- ৫০ টাকা ছিল এবার তার দাম ৬০-৮০ টাকা। আবার যেইগুলোর দাম ৫০ টাকা ছিল এবার তা ৬০- ৮০টাকায় বিক্রি করছেন তারা। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে পর্যটক আসলে তারা আরোও বেশী দাম দিয়ে বিক্রি করতে পারতেন।

এদিকে কাপ্তাইয়ের তালুকদার সবুজ খামারের প্রোপাইটার ওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান অরুন তালুকদার জানান, প্রতিবছরের মতো এইবছরও তার বাগানে প্রায় ২০ একর জমিতে আম্রপালি এবং রাঙোয়া জাতের আমের ফলন হয়েছে। তবে আম্রপালি জাতের আমের ফলন গত বছরের তুলনায় এই বছর একটু বেশী হলেও আকারে একটু ছোট।

তিনি আরোও জানান, রাঙোয়া জাতের আমের ফলন এই বছর তাঁর বাগানে কম হয়েছে , তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বাহিরের পর্যটক না আসায় এইবছর আশানুরুপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

কৃষক আপাই মারমা, অজিত তালুকদার সহ অনেক কৃষক জানান, এই বছর করোনার প্রকোপে বাহিরর ক্রেতা কম আসায় মৌসুমী ফলের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামসুল আলম চৌধুরী জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এই বছর কাপ্তাইয়ে মৌসুমী ফলের আশানুরুপ উৎপাদন হয়েছে। প্রত্যেকটি গাছে পোকা মাকড়ের আক্রমন ছাড়া কৃষকরা আম, কাঠাল, আনারস, লিচু সহ নানা ফলের উৎপাদন করেছেন। তবে স্থানীয় বাজারে বেচাবিক্রি থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারনে পর্যটক কম আসায় এই বছর কৃষকরা আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।