কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধিতে ডুবে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু : বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

রাঙামাটি পর্যটনের আকর্ষনীয় ঝুলন্ত সেতু এখন পানির নীচে
টানা বৃষ্টির পাহাড়ী ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির সিম্বল অব খ্যাত পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেত নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ডুবে আছে পানির নীচে। তবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। এখন গড়ে ১৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ায় পর্যটন কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পেলে ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের এ সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। সাধারনতঃ প্রতিবছরের আগষ্ট মাসে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে এ সেতুটি ডুবে যায়। দেশ- বিদেশের পর্যটকদের একমাত্র আকর্ষণীয় রাঙ্গামাটি সেতুটি নির্মাণ ত্রুটির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই সময়টাতে পর্যটন কর্তৃপক্ষ সেতুর ওপর চলাচল নিষেধ করে দেয়ার ফলে প্রতিবছর এই খাত থেকে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাছে।
রাঙ্গামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, গত কয়েক দিনের অতি বর্ষণে উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা অতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে। এতে রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে অবস্থিত মনোরম ঝুলন্ত সেতু ডুবে গেছে। ফলে সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বৈচিত্রময় প্রকৃতির শহর রাঙ্গামাটি উপভোগ করতে পর্যটকদের আগমনে ডুবে থাকা ঝুলন্ত সেতু তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। সেতুটির সংস্কার বা পুনঃনির্মানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন :
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ১৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবে বিকল থাকা ইউনিটটি চালু থাকলে ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ড. এম এম এ আব্দুজ্জাহের জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ১৬টি স্পিলওয়ে ৬ ইঞ্চি করে খুলে সেকেন্ডে ৩৩হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। কাপ্তাই বাঁধের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে হ্রদে ১৯.৯ ফুট পানি বেশি রয়েছে।

আরও পড়ুন
Loading...