কালবৈশাখী ঝড়ে বান্দরবানে ৫ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি

NewsDetails_01

বান্দরবানের লামায় কালবৈশাখী ঝড়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩ মে) সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এতথ্য জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (১ মে) মধ্য রাতে লামা উপজেলার পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্ধস্ত হয়েছে প্রায় ৯শ’র বেশি বসতঘর, উপরে গেছে প্রায় ২০টির বেশি বিদ্যুতের খুটি। সড়কে গাছের ঢালপালা ভেঙে পড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল যোগাযোগ ব্যাবস্থাও। এছাড়া ফসলি জমি ও ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হলেও কালবৈশাখী ঝড়ের দুই দিন পরেও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অধিকাংশরা খোলা ছাদের নিছে বসবাস করছেন।

লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ সিদ্দিক জানান, ১মে ভোরে ঘুর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১১কেভি সঞ্চালনের ১৭টি খুটি ও ৩৩ কেভি সঞ্চালনের ১টি খুটি ভেঙে যাওয়াতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

আজ শুক্রবার মেইন লাইন চালু করে লামা হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে লাইনঝিড়ি হতে ছাগলখাইয়া, লামা আলিকদম সঞ্চালনের ১১কেভি লাইনটি প্রায় দেড়কিলোমিটার বিদ্যুৎতের তার ছিড়ে যাওয়াতে আলিকদম সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী একসাথে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিদ্যুৎতের লাইন স্বাভাবিক করতে। দুয়েকদিনের মধ্য লামা ও আলিকদমের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন ।

NewsDetails_03

লামা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, গজালিয়া ইউনিয়ন ও সরই ইউনিয়ন ব্যতীত লামা পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে ৮শত ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাস্তাঘাটে গাছ পালা ভেঙে পড়েছিল সেগুলো পৌর মেয়রের নেতৃত্বে, রেডক্রিসেন্টের সদস্য,স্থানীয়দের নিয়ে ভেঙে পড়া গাছ-পালা কেটে পরিস্কার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে আজ (শুক্রবার) দশ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। গোডাউনে কিছু ঢেউটিন ছিল সেগুলো ক্ষতিগ্রস্থদেরকে তাৎক্ষনিক বিতরণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

লামা পৌর মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম (আবছার) জানান, গত বুধবার রাতে ঘুর্ণিঝড়ে লামা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পৌর এলাকায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। শুধু পৌর এলাকায় একশ বিশটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও তিনশটি ঘর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। পৌরএলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আড়াই থেকে তিনকোটি টাকা হবে। ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য ত্রাণ ও পূর্ণবাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষনিক চাউল ও আর্থিক বরাদ্ধ পাওয়া গেছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, লামা পৌরসভা, সাতটি ইউনিয়নে গত বুধবার রাতে ঘুর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছয়শত থেকে সাতশত ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক হতে পর্যাপ্ত পরিমানে ত্রাণ বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ক্ষতিগস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সর্বমোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ সময় স্বাপেক্ষ বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন