কাল লামা পৌর নির্বাচন : প্রতিদ্বন্ধিতায় ৩ মেয়র ও ৩৮ কাউন্সিলর প্রার্থী

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কাল শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে লামা পৌরসভার চতুর্থ সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে চূড়ান্ত ভাবে মেয়র পদে ৩জন সহ সাধারন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে ইতিমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষনও প্রদান করা হয়। ভোট গ্রহনের দিন কেন্দ্র ও সার্বিক আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে ৯জন ম্যাজিষ্ট্রেটসহ র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এবারে পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ন।

সূত্র জানায়, ২৮.৪৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৮৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৩০০ জন ও মহিলা ৬ হাজার ৩৮৬জন। এ সকল ভোটাররা ৯ টি ভোট কেন্দ্রের ৩৯টি ভোট কক্ষের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুইটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো-লাইনঝিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিলেরতুয়া মার্মা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

অন্য কেন্দ্রগুলো হলো- চাম্পাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেয়ারম্যান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলিঙ্গাবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মধুঝিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন। এ দু’য়ের সাথে ভোটের মাঠে আছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম শহিদুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে।

অপরদিকে, চূড়ান্তভাবে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সব প্রার্থীই প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে দিন রাত পাহাড় নদী ডিঙ্গিয়ে ভোটারদের বাড়ী বাড়ী উঠান বৈঠক, প্রচার প্রচারনাসহ গণসংযোগ করেছেন। পৌরসভার প্রতিটি অলি গলিতে টাঙ্গিয়েছেন ডিজিটাল ব্যানার ও পোস্টার। রাত ১২টার পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে যানবাহন চলাচলসহ বহিরাগতদের পৌরসভা এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়।

সাধারন ভোটারদের মতে, বিএনপির দূর্গ ক্ষেত লামা পৌরসভা নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় নৌকা প্রতিক নিয়ে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। এবার প্রতিকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজ প্রাধান্য পাবেন বলে তাদের ধারনা। তবে কার মাথায় উঠছে মেয়রের মুকুট এজন্য অপেক্ষা করতে হবে আজ শনিবার ভোট গ্রহনের পর গননা পর্যন্ত।

লামা পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নির্বাচন যাতে করে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ হয় সে জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষনও প্রধান করা হয়। এখন শুধু ভোট গ্রহনের অপেক্ষায়। আশা করি লামা পৌরবাসীকে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। এজন্য সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতি কেন্দ্রে ৮ জন পুলিশ সদস্য থাকবে। এছাড়া থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা আনসার ভিডিপি সদস্য। পাশাপাশি ৯জন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব, বিজিবি আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।