কে দাঁড়াবে ওদের পাশে ?

অসুস্থ গরুর পাশে কান্নারত বৃদ্ধা মাইয়াছিং মার্মা
মিপা মার্মা, পোয়াং মার্মা, মাইয়াছিং মার্মা,তারা খুব গরীব, প্রান্তিক আদিবাসী। কোন ভাবে জীবনের রেল গাড়িটা টেনে নিয়ে যায়। অভাব অনটনের সংসারে তাদের একমাত্র সম্বল গৃহপালিত গরুগুলো। আর সেই গরুগুলোর মৃত্যুতে তাদের জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়ে নি:স্ব এখন। তাদের কান্নার যেন শেষ নেই, আগামী দিনগুলোতে কিভাবে দুমোঠো খেয়ে জীবনের দিনগুলো পাড়ি দিবেন সেই চিন্তাই যেন তাদের উৎকন্ঠার শেষ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে গত রবিবার ইউরিয়া সার খেয়ে ৪ গরুর মৃত্যু হয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় আছে আরো ২টি গরু। চারটি গরুর বাজার মূল্য আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের এগারো নাম্বার রাবার বাগানের পাশে আবদুল খালেকের রাবার বাগানে। মৃত গরুর চারটি মালিক হলো আট নং ওয়ার্ডের দৈয়ারবাপের মার্মা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিপা মার্মা, পোয়াং মার্মা, মাইয়াছিং মার্মা।
প্রত্যক্ষদর্শী গরু চড়াতে যাওয়া রাখাল মাছিনু মার্মা, মাজাইও মার্মা ও মেওয়াইচিং মার্মা জানান, বাগানে সার দিতে যাওয়া শ্রমিকেরা মালিকের অগোচরে কিছু সার পলিথিনে মুড়িয়ে জংগলে লুকিয়ে রাখে। ঐ সার গুলো গরু খাওয়ার পরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ডাক্তার নিয়ে ও কাজ হয়নি। এছাড়া সার খেয়ে আরো দুইটি গরু অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। অসুস্থ গরুর মালিক হলো মামেছিং মার্মা।
ক্ষতিগ্রস্থ গরুর মালিকেরা জানান, তাদের একমাত্র সম্বল গরু গুলো হারিয়ে এখন অসহায়। এই গরু দিয়ে তারা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতো, পরিবারের ভরনপোষনের একমাত্র অবলম্বল ছিলো এই গৃহপালিত গরুগুলোই।
স্থানীয় আদিবাসী নেতা বাবু নিউলামং মার্মা জানান, অসতর্কতার সহিত সার প্রয়োগ এবং বাগান ম্যানেজার অনুপস্থিত থাকায় শ্রমিকেরা সার লুকানোর সুযোগ পেয়েছে। তিনি বাগানে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের ও দায়ী করেছেন।
এছাড়া তিনি বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এ,এক,এম হাবিবুল ইসলামকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
স্থানীয়রা মনে করছে, কোন ভাবে যদি তাদের ৪টি গরু কেউ কিনে দেয় বা দান করে তাহলে তারা ফের পথচলতে পারবে, ঘুচবে তাদের জীবনের পথচলার কষ্টগুলো।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।