কে হতে যাচ্ছে আলীকদম উপজেলা পরিষদের অভিভাবক ?

NewsDetails_01

অনেক জল্পনা কল্পনার মধ্যে দিয়ে চলছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এর প্রচার প্রচারণা। আর কে হতে যাচ্ছেন আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান? এই নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহের শেষ নেই।

আগামী ৮ মে ১ম ধাপে ৬ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৫২ টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলাও। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দ্বিমূখী লড়াইয়ের নেমেছেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী জামাল উদ্দিন ও আবুল কালাম। ইতিমধ্যে আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়াচ্ছেন এই দুই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

আওয়ামী লীগের সমর্থিত নৌকা প্রতীক না থাকায় ও বিরোধী দল (বিএনপি) অংশ না নেওয়ায় ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তিন বারের নির্বাচিত আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম। এবারে মোঃ আবুল কালাম ও জামাল উদ্দিনের নের্তৃত্বের পাল্লাটিও বেশ ভারী।

একদিকে জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন বান্দরবান ৩০০ নং আসনের এমপির ও পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী’র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

নির্বাচনের প্রসঙ্গে জামাল উদ্দিন জানান, আমি নির্বাচনে জয়ি হওয়ার ব্যাপারে ১০০% আশাবাদী। তবে তিনি অভিযোগ করে জানান, প্রতিপক্ষ প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডার চালাচ্ছে। আমার পারিবারিক বিষয়ে আমার অসুস্থতাকে নিয়ে হেয় পূর্ণ কথা বলছেন। তবে এবার জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবে বলে আমি আশাবাদী।

অন্যদিকে মোঃ আবুল কালাম ছাত্রদল, যুবদল, আলীকদম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ২০১৯ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। তিনি আলীকদম সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও টানা তিনবার আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর পার্বত্য নাগরিক পরিষদের জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার চতুর্থবারের মত আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে অংশ গ্রহণ করছেন তিনি।
নির্বাচনের বিষয়ে একাধিকবার ফোন দিয়েও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

NewsDetails_03

সরেজমিনে দেখা যায়, এবারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেবলমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঘিরে আমেজে মেতেছে সবাই। তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামের দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা থাকার পরেও আলীকদমে সামগ্রিকভাবে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না থাকায় এবারে বেশ ভোটারদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। অনেক ভোটার তার দৃশ্যমান ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে জামাল উদ্দিনের অভ্যন্তরীয় কোন্দল থাকলেও এবারের তা সম্পূর্ণ কাটিয়ে মাঠে নেমেছেন সবাই।

এবারে কোন ধরণের প্রার্থীকে ভোট দিবেন এই প্রশ্নে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইফুল ইসলাম রিমন বলেন, অপার সৌন্দর্য লীলাভূমি আলীকদম উপজেলা। এই সৌন্দর্য শুধুমাত্র প্রাকৃতিকভাবে সীমাবদ্ধ। এই সৌন্দর্যের বিস্তার যিনি সব জায়গায় ছড়িয়ে দিবেন আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকেই রায় দিব।

তিন পার্বত্য জেলায় শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচে পিছিয়ে পড়া উপজেলা আলীকদম, যেখানে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কলেজ নেই এবং মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। সরকারি হাসপাতালে ন্যূনতম এফসিপিএস, এমবিবিএস ‌ভালো ডাক্তার নেই। এছাড়াও আলীকদম এখন হাজার হাজার পর্যটকদের প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং উপরোক্ত সমস্যাগুলোর পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে যিনি কাজ করবেন তাকে আমার পবিত্র ভোটটি দিব।

অন্যদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) নির্বাচন করছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বিএসসি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো রিটন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার ও ৩ নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইয়াসমিন আক্তার।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ মে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলীকদম উপজেলাসহ জেলার ৩টি উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচনে শেষ হাসি কে হাসবে, এটি দেখার এখন সময়ের অপেক্ষায় ভোটাররা ।

আরও পড়ুন