কোকিল প্রজাতির ফিঙে কুলি

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের বড় ছড়ার সর্পিল পথ ধরে হাঁটছি। সঙ্গী প্রিয় ছাত্র ইয়াছিন বলে উঠল, ‘স্যার, ডুমুরগাছে কালো একটা পাখি দেখা যাচ্ছে। কী পাখি এটা?’ ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রেখে পাখিটিকে ভালোভাবে যাচাই করার চেষ্টা করছি। কুচকুচে কালো পাখি, ঠোঁটটা নিচের দিকে খানিকটা বাঁকা। কিন্তু লেজের তলাটা তো দেখা যাচ্ছে না। পাখিটা মূর্তির মতো বসে আছে, একটুও নড়নচড়ন নেই। ঘাড়টাও একটু দেখা দরকার। একটু একটু করে এগোচ্ছি। এবার একটু নড়ে উঠল। এই তো লেজের তলা আর ঘাড়ে সাদামতো দেখা যাচ্ছে। এই পাখিটার ছবি আমার কাছে নেই। ওর কিছু ছবি তুলে খুশিমনে সামনের দিকে এগোলাম।

আমার দেখা নতুন এই পাখির নাম ‘ফিঙে কুলি’। ফিঙে কোকিল বা ছোট ফিঙে নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Asian Drongo Cuckoo, Drongo Cuckoo বা Square-tailed Drongo Cuckoo। Cuculidae পরিবারভুক্ত পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Surniculus lugubris।

ঠোঁটের আগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত ফিঙে কুলি দৈর্ঘ্যে ২৪-২৫ সেন্টিমিটার ও ওজনে ২৬-৪৩ গ্রাম। লেজের তলা ও লেজের বাইরের পালকের গোড়ার সাদা ডোরা ছাড়া একনজরে পুরো দেহ চকচকে নীল-কালো। ঘাড়ের পেছনে ছোট্ট সাদা দাগ। দেখতে অনেকটা ধৌলি ফিঙের মতো হলেও আদতে এটি এক প্রজাতির কোকিল। চোখ কালচে বাদামি ও ঠোঁট বাদামি-কালো।

ফিঙে কুলি সচরাচর দৃশ্যমান আবাসিক পাখি। মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বন ও ফুল-ফলের বাগানে দেখা যায়। মূলত গাছে গাছে থাকে। কদাচ মাটিতে বা নিচু ঝোপে নামে। শূককীট ও নরম দেহের পোকামাকড় খেতে পছন্দ করে।

কোকিলের অন্যান্য প্রজাতির মতো এরা না বানায় বাসা, না দেয় ডিমে তা, না করে বাচ্চার যত্ন। ডিম পাড়ার সময় হলে সচরাচর স্ত্রী কুলি ছোট আকারের ছাতারে প্রজাতির পাখির বাসায় গোপনে ডিম পাড়ে। একাধিক বাসায় ডিম পাড়ে। সাধারণত প্রতি বাসায় দুটি করে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার সময় পোষক পাখিটির সমানসংখ্যক ডিম ফেলে দিয়ে ডিম পাড়বে। সচরাচর পোষক পাখির ডিম ফোটার দু-এক দিন আগে এদের ডিম ফোটে। ডিম থেকে ফোটার পর চোখ না ফোটা বাচ্চাগুলো পোষক পাখির না ফোটা ডিম বাসা থেকে নিচে ফেলে দেয় যেন ওরা এদের খাবার বা যত্নে ভাগ বসাতে না পারে। আর এভাবেই বাচ্চাগুলো পোষক বাবা-মায়ের যত্নে একদিন বড় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।