কোন কুত্তার বাচ্চা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে : পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা

পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা
“কোন কুত্তার বাচ্চা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ উত্তোলন করিনি, যে কুত্তার বাচ্চা অভিযোগ দিয়েছে শুধু নামটা বলেন আমাকে”। বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়ার বৌদ্ধ বিহারসহ দুইটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বিল উত্তোলন করা হলেও এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাহাড়বার্তা থেকে ফোন করা হলে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা ফোনে এসব কথা বলেন।
এসময় পাহাড়বার্তার প্রতিবেদক কথোপকতনে বলেন, অভিযোগ একজন সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে উঠতে পারে, কিন্তু অভিযোগটি সত্য নাকি মিথ্যা, সেই ব্যাপারে একজন অভিযুক্তের বক্তব্য দেওয়াটা উচিত। এসময় পাহাড়বার্তার প্রতিবেদক একজন চেয়ারম্যান এই ভাষায় কারো সাথে কথা বলতে পারে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যে আপনাকে (সাংবাদিক) অভিযোগ দিয়েছে তাকে বলেছি,সাংবাদিককে গালি দিয়ে তো কথা বলেনি।
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না, কিছুদিন পরপর বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় আসছে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা এর নাম। একই ইউনিয়নের মহিলা মেম্বারকে প্রকাশ্যে লাথি মারা, প্রকল্পের নামে ক্ষোধ বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ না করেই অর্থ লোপাট, এলাকার সাধারণ মানুষদের সাথে খারাপ আচরনসহ যেন অভিযোগের শেষ নেই।
আরো জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার একটি খাবার হোটেলে ভাত খাচ্ছিলেন মহিলা মেম্বার ছোমাচিং মারমা (৩০)। এ সময় উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা ওই খাবার হোটেলে যান। মহিলা মেম্বার ছোমাচিং এর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া এবং মহিলা মেম্বারের পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি চেয়ারম্যানের সামনে আলোচনায় আনেন ছোমাচিং এর সাথে থাকা কয়েকজন। এ সময় পদত্যাগের ব্যাপারটি নিয়ে তর্কে জড়ান দুজনই। এক পর্যায়ে সবার সামনে হোটেলে ছোমাচিং মেম্বারকে লাথি মেরে ফেলে দেন চেয়ারম্যান উহ্লা মং। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উত্তেজিত দুইজনের ঝগড়া থামান। ছোমাচিং পাইন্দু ইউনিয়নে ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা নিয়ে গত ৪ এপ্রিল পাহাড়বার্তা একটি সংবাদ প্রকাশ করলে জেলা জুঁড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পাহাড়বার্তায় প্রকাশিত সংবাদ পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র দৃষ্টিগোচর হলে এই চেয়ারম্যানকে তলব করে সতর্ক করেন। কিন্তু এই সতর্কতার পরও বিভিন্ন ঘটনার জন্ম দিয়ে আলোচনায় আসছে পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা।
প্রসঙ্গত,২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ(টিআর) সাধারণ নগদ টাকার কর্মসূচীর আওতায় পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়া বৌদ্ধ বিহারে চারেক ঘর নির্মাণ কাজের বিপরীতে দুই লক্ষ টাকায় প্রকল্প গ্রহন করায়। এ প্রকল্পের সভাপতি পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা নিজেই। দুই মাস আগে এক লক্ষ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইন্দু ইউপি চেয়রম্যান উহ্লামং মারমা এই চান্দা পাড়ায় দুইটি প্রকল্প গ্রহন করে প্রায় দুই লক্ষ টাকা আত্মসাত করে নেন। এপ্রিলের প্রথম দিকে ভুয়া ছবি লাগিয়ে দুইটি প্রকল্প চুড়ান্ত বিল পাইতে আবেদন করেন ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা। প্রকল্প দু‘টি পরিদর্শন করেন ইউএনও মোহাম্মদ শামসুল আলম। তাঁর পরিদর্শনে চারেক ঘর নির্মাণের কোনো আলামত খোঁজে পাননি তিনি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।