ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে শঙ্খ নদীর ওপর নির্মিত রেল ব্রিজ

বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পটি অন্যতম। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
এদের মধ্যে তমা গ্রুপ প্রকল্পটির চন্দনাইশের দোহাজারী থেকে চকরিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে। ইতিমধ্যে দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের জুলাই মাস থেকে কাজ শুরু হয়ে ইতিমধ্যে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত রেললাইন।
এরিই মধ্যে দোহাজারী অংশে শঙ্খনদীর উপর ২৪৭ মিটার দৈর্ঘ্যের স্টিল প্লেইট গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
এ প্রকল্পের ব্রিজ সেকশনে নিয়োজিত সিনিয়র ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক বলেন, ২৪৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এ ব্রিজ মোট খুঁটি (পিলার) হবে ৮টি। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ৩৯ মিটার।
বর্তমানে ৮টি খুঁটিই নির্মাণ শেষ হয়েছে। প্রতিটি খুঁটির নিচে সাড়ে ৪৪ মিটার গভীরতার ৬টি করে পাইল বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্রিজের ৬০% কাজ শেষ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ব্রিজের নীচের অংশের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার পরিকল্পনা করছেন প্রকৌশলীরা। কারণ বর্ষার সময় শঙ্খনদীতে পাহাড়ি ঢল নেমে আসলে ব্রিজ নির্মাণ বাঁধাগ্রস্ত হবে।
ফলে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা সকাল সন্ধা কাজ করছেন।
জানা যায়, দোহাজারী-কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেললাইন শুরুতে মিটার গেজ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন নির্মাণ করা হচ্ছে ডুয়েল গেজ লাইন।
ফলে এ রেললাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের জনগণ রেলে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজার যাওয়া আসা করতে পারবেন।
পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির উৎপাদিত পণ্য, শুটকি, লবণ, সবজিসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে সহজ হবে।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রী এডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম সুজন দোহাজারীতে রেললাইন নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই এ দেশের মানুষ রেলে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাওয়া আসা করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।