ক্ষুদ্র- নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক পায়নি বান্দরবানের শিক্ষার্থীরা !

ক্ষুদ্র- নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক
নতুন বছরের প্রথম দিন নিজস্ব ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক পাওয়ার কথা ছিল বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের কিন্তু জমকালো আয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষায় মুদ্রিত পাঠ্য বই বিতরণ করা হলেও সরকারি ঘোষণা অনুয়াযী ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১জানুয়ারি বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলা,ইংরেজী,গণিত,সমাজ,বিজ্ঞান ইত্যাদি বই পেলেও ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য সরকার রচিত চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বই হাতে পায়নি ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা। আর বছরের প্রথম দিকে নিজ মাতৃভাষায় প্রণিত বই না পাওয়ায় হতাশ জেলার ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা।
বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্র মং শৈ মার্মা বলেন,বছরের প্রথম দিন আমরা আমাদের মাতৃভাষার বই পাওয়ার কথা ছিল,কিন্তুু বিদ্যালয়ে আমাদের বই আসেনি।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৪৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ২২২টি, মারমা ভাষার ২১৮১ টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৪৮৪টি, প্রথম শ্রেণি চাকমা ভাষায় ২৩৬টি ,মারমা ভাষায় ২৫৬৭টি,ত্রিপুরা ভাষায় ৫৮৬টি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ২৩৪টি,মারমা ভাষায় ২৬০২টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৬০৮টি সর্বমোট ৯ হাজার ৭শত ২০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে।
বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মংখিনু মার্মা বলেন, বছরের শুরুতেই আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের মাতৃভাষায় প্রণিত বইগুলো হাতে তুলে দিব এবং পড়ালেখা শুরু করব , কিন্তু সঠিক সময়ে বই না পাওয়ায় আমরা হতাশ।
এদিকে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী বছরের শুরুতেই ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের আনন্দটা অনেক বেড়ে যেত,আর সেই সাথে সাথে সমান তালে লেখাপড়াটা ও এগিয়ে যেত সবার।
বান্দররবান ডনবস্কো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পুলুষে মার্মা জানান,আমরা গত বছর শুরুতে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো পেয়েছিলাম কিন্তু এবছর এখনো পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো আসেনি ।
আরো জানা গেছে,বাংলা ভাষায় রচিত সব পাঠ্য পুস্তক বান্দরবানে চলে আসলেও ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত প্রাক প্রাথমিক শ্রেনীর কোন বই এখনো জেলায় পৌঁছেনি এবং ১ম ও ২য় শ্রেনীর চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার তিন সেটের মধ্যে এক সেট বইও এখনো আসেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শহীদুল ইসলাম জানান, ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বইগুলো ছাপানো হয়েছে তবে এখনো আমাদের অফিসে সবগুলো বই আসেনি, বই আসলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিতরণ করব।
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, কালক্ষেপন না করে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বছরের প্রথম মাস থেকেই ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বইগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হোক, আর বাংলা ভাষার বইয়ের সাথে সাথে নিজ মাতৃভাষায় রচিত বইগুলো অধ্যায়ন করে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাক।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।