খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল ও গুলতি নিক্ষেপে জড়ায়। এতে শহরের পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সদর উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে মিছিল নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ গেইট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কলেজ গেইট এলাকায় এক কম্পিউটার দোকানের অপারেটর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দোকানের শাটার নামিয়ে দিই। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সংঘর্ষের পর কলেজ গেইট সংলগ্ন একটি ফার্মেসিতে দুই যুবককে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) দাবি করেছে, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন দিবস’ উপলক্ষে চেঙ্গী স্কয়ারে তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রতিপক্ষ হামলা চালায়। এতে অনাদি চাকমা নামে এক নারী আহত হন। জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, সরকারের মদদপুষ্ট একটি অংশ আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে এবং গুলিও চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আনন্দ মিছিল চেঙ্গী স্কয়ারে পৌঁছালে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) প্রথমে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পাল্টা ধাওয়া হয়। তিনি গুলির ঘটনা অস্বীকার করেন এবং বলেন, “পালাতে গিয়ে কেউ পড়ে গিয়ে আহত হতে পারে, তবে গুলির কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, ইউপিডিএফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



